বাংলাদেশের আঞ্চলিক সম্পর্ক, বিশেষ করে চীন ও ভারতের সঙ্গে ঢাকার সম্পর্ক নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উদ্বেগের ইঙ্গিত নেই বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান। বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা জানান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মার্কিন বিশেষ দূতের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি, তাই তিনি ধরে নিচ্ছেন এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো উদ্বেগ নেই।
বৈঠক শেষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্সে মার্কিন কূটনীতিক সার্জিও গর তার প্রতিক্রিয়ায় বলেন, তার প্রথম বাংলাদেশ সফরে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিল রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং যুক্তরাষ্ট্র-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক সুদৃঢ়করণে যৌথভাবে কাজ করার বিষয়ে আলোচনা করতে পেরে তিনি আনন্দিত। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, অনেক ইতিবাচক অগ্রগতি হয়েছে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান জানান, দুই দেশের মধ্যে বর্তমানে অত্যন্ত চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক বিদ্যমান এবং তা কীভাবে আরও এগিয়ে নেওয়া যায় সে বিষয়ে ইতিবাচক আলোচনা হয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, গত সপ্তাহে ম্যানিলায় সার্জিও গরের সঙ্গে তার বৈঠক হয়েছিল এবং একই সফরে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গেও তার সাক্ষাৎ হয়েছে। তিনি বলেন, আমাদের সম্পর্ক এখন অত্যন্ত ইতিবাচক অভিমুখে আছে।
বৈঠকে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও অভিবাসনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সার্বিক অগ্রগতির পথ নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা নিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ই কথা বলতে পারবে। জ্বালানি সহযোগিতার ক্ষেত্রে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী কাজ চললেও গ্যাস অনুসন্ধান বা উৎপাদন অংশীদারিত্ব চুক্তি নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।
রোহিঙ্গা ইস্যুতে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে বাংলাদেশ যে সহায়তা পায় তার অর্ধেকেরও বেশি আসে যুক্তরাষ্ট্র থেকে। মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগের বিষয়টি বৈঠকে আলোচনা না হলেও বাংলাদেশ আশা করে যুক্তরাষ্ট্র মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখবে এবং সংকট সমাধানে বহুপাক্ষিক উদ্যোগে সহযোগিতা করবে। সার্জিও গর শুক্রবার কক্সবাজারে রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যাবেন বলেও জানান তিনি। এছাড়া মিয়ানমারে মানবিক করিডোর নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রস্তাব নেই বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, বাংলাদেশ-চীন-মিয়ানমার করিডোর, আওয়ামী লীগের কার্যক্রম বা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে বৈঠকে কোনো আলোচনা হয়নি। সার্জিও গরের তিনদিনের সফরের শেষ দিন শনিবার সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে বৈঠকের কথা রয়েছে, যেখানে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক ও আঞ্চলিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সম্ভাবনা রয়েছে।