টানা প্রায় পাঁচ দিন বিরতির পর ফের ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী। পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন বাহিনীর ওপর আকস্মিক হামলার চেষ্টার প্রতিশোধ হিসেবে দেশটিতে ‘বড় ধরনের’ এই হামলা শুরু করার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় অনুযায়ী মঙ্গলবার রাত ৮টার দিকে এই অভিযান শুরু হয়।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এক এক্স পোস্টে জানিয়েছে, মঙ্গলবার জর্ডানে মার্কিন ঘাঁটি এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজের দিকে ইরানের গোলাবর্ষণের প্রতিক্রিয়ায় এই হামলা ছিল একটি ‘শক্তিশালী জবাব’। এর আগে বুধবার নতুন এই হামলার ঘোষণার কয়েক ঘণ্টা আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন সেনাদলের ওপর আগের দিনের ইরানি হামলা চেষ্টার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করেছিলেন। হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের তিনি বলেছিলেন, আমরা তাদের ওপর খুব জোরালো আঘাত হানতে যাচ্ছি, কারণ এবার তাদের ওপর আমাদের আঘাত করার পালা।
ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, তারা শিশু হত্যাকারী আমেরিকান বাহিনীর আগ্রাসনের জবাবে জর্ডানে একটি মার্কিন বিমানঘাঁটি এবং একটি কমান্ড সেন্টারে হামলা চালিয়েছে। একইসঙ্গে তারা জানিয়েছে যে, তাদের নৌবাহিনী হরমুজ প্রণালিতে তিনটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে আঘাত করেছে। আইআরজিসির দাবি, এসব নৌযান সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে উপসাগরীয় জলপথের অনিরাপদ এবং অবৈধ পথ দিয়ে যাত্রা করছিল।
সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, গত ৭২ ঘণ্টায় আইআরজিসি পরিচালিত ৩০টির বেশি ড্রোন হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব যৌথভাবে পূর্ব ইরাক জুড়ে সন্ত্রাসীদের রসদ ও অস্ত্রের ঘাঁটিতে আঘাত হেনেছে। বিবিসি জানিয়েছে, ইরাকে ইরানি মিত্রদের লক্ষ্য করে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরবের এই যৌথ হামলার মাধ্যমে যুদ্ধের পরিধি আরও বিস্তৃত হলো। যদিও ইরাকি প্রেসিডেন্টের দপ্তর পিএমএফ ঘাঁটিতে এই বোমাবর্ষণের নিন্দা জানিয়ে একে ইরাকের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে। তবে ট্রাম্প ফক্স নিউজকে জানিয়েছেন, ইরাক সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করেই এই হামলাগুলো চালানো হয়েছে।
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান অভিযানের সময় ট্রাম্প বলেছিলেন, এই যুদ্ধ মাত্র কয়েক সপ্তাহ স্থায়ী হবে। কিন্তু পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও যুদ্ধের সমাপ্তির কোনো লক্ষণ দেখা যাচ্ছে না। কূটনৈতিক উপায়ে সমাধানের আশায় উভয় পক্ষ কয়েকদিন হামলা বন্ধ রাখলেও এখন পরিস্থিতি ভিন্ন। যদিও ট্রাম্প সম্প্রতি একটি খুব বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনার কথা বলেছিলেন, কিন্তু তেহরান কোনো ধরনের আলোচনা চলার কথা অস্বীকার করেছে। এছাড়া সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রী প্রিন্স খালিদ বিন সালমান ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে উত্তেজনা কমানোর আগ্রহ প্রকাশ করেছেন বলেও মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাতে অ্যাক্সিওস জানিয়েছে।
টানা প্রায় ৫ দিন বিরতির পর ফের ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করেছে মার্কিন বাহিনী। পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিন বাহিনীর ওপর আকস্মিক হামলার চেষ্টার প্রতিশোধ হিসেবে ইরানে বিরুদ্ধে ‘বড় ধরনের’ এ হামলা শুরু করার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। যুক্তরাষ্ট্রের পূর্বাঞ্চলীয় সময় (ইস্টার্ন টাইম) অনুযায়ী রাত ৮টার (বাংলাদেশের স্থান