ইউরোপীয় ফুটবলের দুই পরাশক্তি স্পেন ও ফ্রান্সের মধ্যকার সেমিফাইনাল ম্যাচটি কেবল মাঠের লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ ছিল না, বরং এটি রূপ নিয়েছিল রেকর্ড ভাঙা-গড়ার এক মহাকাব্যে। শেষ পর্যন্ত লুইস দে লা ফুয়েন্তের দল ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে এবং পরিসংখ্যানের পাতায় নিজেদের আধিপত্য বিস্তার করে। অন্যদিকে, ফরাসিদের জন্য এই ম্যাচটি পরিণত হয় চরম হতাশার এক দলিলে।
স্পেন বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথম দল হিসেবে এক আসরে ৬ ম্যাচে ‘ক্লিন শিট’ রাখার অনন্য কীর্তি গড়েছে। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় শিরোপা জয়ের পর এটি স্পেনের দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠা। বর্তমান ইউরো চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি এখন তাদের সামনে। এর আগে ২০০৮ ইউরো জয়ের পর ২০১০ বিশ্বকাপ জিতেছিল তারা। এবার জিতলে তারা পশ্চিম জার্মানির (১৯৭২ ইউরো ও ১৯৭৪ বিশ্বকাপ) রেকর্ড ছাড়িয়ে যাবে।
নকআউট পর্বে ফ্রান্সের বিপক্ষে সর্বশেষ পাঁচবারের দেখায় চারটিতেই জয় পেয়েছে স্পেন। ম্যাচের ২২তম মিনিটে মিকেল ওইয়ারসাবাল পেনাল্টি থেকে গোল করে বিশ্বকাপে নিজের পঞ্চম গোলটি পূর্ণ করেন। ডেভিড ভিয়া ও এমিলিও বুত্রাগেনিওর পর স্পেনের মাত্র তৃতীয় খেলোয়াড় হিসেবে তিনি এক আসরে ৫ বা তার বেশি গোল করার এলিট ক্লাবে প্রবেশ করেছেন। এছাড়া ৫৮তম মিনিটে গোল পাওয়া পেদ্রো পোরো গত ৬০ বছরের মধ্যে বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে একাধিক গোল করা পঞ্চম ডিফেন্ডার হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন।
২০০৬ বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে ফ্রান্সের কাছে হারের পর থেকে নকআউট পর্বে স্পেন টানা ১০ ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে, যার মধ্যে ৮টি জয় ও ২টি ড্র। অন্যদিকে, ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে এই ম্যাচে একবারও লক্ষ্যে শট রাখতে পারেননি, যা বিশ্বকাপের গত ৯ ম্যাচের মধ্যে তার প্রথম ঘটনা। ১৯৮৬ সালের পর বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে এটিই ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের পরাজয়। এর আগে ১৯৮৬ সালের সেমিফাইনালে পশ্চিম জার্মানির কাছে তারা ২-০ গোলে হেরেছিল।
সব ধরনের প্রতিযোগিতার নকআউট পর্বে ফ্রান্সের বিপক্ষে সর্বশেষ পাঁচবারের দেখায় চারটিতেই জিতেছে স্পেন। এ সময়ে স্পেনের একমাত্র হারটি ছিল ২০২১ সালে উয়েফা নেশনস লিগের ফাইনালে।৫
ফরাসি অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে এই ম্যাচে একবারও লক্ষ্যে শট রাখতে পারেননি। বিশ্বকাপে তার সর্বশেষ ৯ ম্যাচের মধ্যে এই প্রথম এমনটি ঘটল। এর আগে শেষবার ২০২২ বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে লক্ষ্যে কোনো শট রাখতে পারেননি এই ফরাসি তারকা।২-০