July 15, 2026, 8:30 pm

পৃথিবীতেই মঙ্গলের অভিজ্ঞতা পেতে স্বেচ্ছাসেবক খুঁজছে নাসা

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, July 15, 2026
  • 5 Time View

যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ সংস্থা নাসা মঙ্গলে দীর্ঘমেয়াদী অভিযানের প্রস্তুতি হিসেবে পৃথিবীতে একটি বিশেষ সিমুলেশন মিশন পরিচালনার উদ্যোগ নিয়েছে। মহাকাশে দীর্ঘ সময় ভিন্ন পরিবেশে মানুষের শরীর ও মন কীভাবে মানিয়ে নেয়, তা বোঝার লক্ষ্যেই এই প্রজেক্টটি সাজানো হয়েছে। ২০২৭ সালের আগস্টে শুরু হতে যাওয়া এই মিশনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘মুন অ্যান্ড মার্স এক্সপ্লোরেশন অ্যানালগ’। এর মাধ্যমে মহাকাশে না গিয়েই মাটির ওপর কৃত্রিম পরিবেশে মঙ্গল গ্রহের কঠিন পরিস্থিতির অভিজ্ঞতা পাওয়া সম্ভব হবে।

এই মিশনের জন্য নাসা সাধারণ মানুষের মধ্য থেকে স্বেচ্ছাসেবক খুঁজছে। প্রজেক্টটি নাসার আগের দুটি মিশন ‘হেরা’ (HERA) এবং ‘চাপিয়া’ (CHAPEA)-এর অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে তৈরি করা হয়েছে। হেরা মিশনের মাধ্যমে মহাশূন্যে একাকী থাকার মানসিক প্রভাব এবং চাপিয়া মিশনের মাধ্যমে থ্রিডি-প্রিন্টারে তৈরি কৃত্রিম মঙ্গলের বাসস্থানে টিকে থাকার সক্ষমতা পরীক্ষা করা হয়েছিল। হিউস্টনের জনসন স্পেস সেন্টারে অবস্থিত গবেষণাগারে অংশগ্রহণকারীরা বাইরের পৃথিবী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এই আবদ্ধ পরিবেশে থাকবেন।

মিশনে মঙ্গলে যাওয়ার বিভিন্ন ধাপের অভিজ্ঞতা প্রদানের জন্য দুটি প্রধান কাঠামো ব্যবহার করা হবে। পৃথিবী থেকে মঙ্গলে যাওয়ার সময় মহাকাশযানের পরিবেশ অনুকরণ করতে ‘ট্রানজিট ভেহিকেল’ থাকবে, যেখানে কাজের জায়গা ও শোবার সুবিধা রয়েছে। অন্যদিকে, মঙ্গলের মাটিতে বসবাসের জন্য থ্রিডি-প্রিন্টারে তৈরি একতলা বাসস্থান ব্যবহার করা হবে, যার ভেতরে শোবার ঘর, বিনোদন কক্ষ, ফসল চাষের এলাকা, চিকিৎসা কক্ষ ও রান্নাঘর থাকবে। এছাড়া বালু ঘেরা বিশেষ জায়গায় ভিনগ্রহে হাঁটার অভিজ্ঞতা এবং নমুনা সংগ্রহের জন্য রোভার মডিউল ব্যবহারের সুযোগও পাবেন স্বেচ্ছাসেবকরা।

এই মিশন থেকে সংগৃহীত তথ্য নাসার হিউম্যান রিসার্চ প্রোগ্রামে ব্যবহৃত হবে, যা মহাকাশচারীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও কাজের সক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করবে। সেই সঙ্গে চাঁদে স্থায়ী ঘাঁটি তৈরি এবং আর্টেমিস অভিযানের জন্য এই প্রযুক্তি ও নিয়মকানুন যাচাই করা হবে। আইএফএল সায়েন্সের তথ্যমতে, ২০০ বছরের পুরোনো দেহাবশেষ নিয়ে গবেষণার মতো মহাকাশ গবেষণাও গুরুত্বপূর্ণ।

স্বেচ্ছাসেবক হওয়ার জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অথবা গ্রিন কার্ডধারী হতে হবে। বয়স হতে হবে ৩০ থেকে ৫০ বছরের মধ্যে এবং উচ্চতা ১.৯ মিটার বা ৭৪ ইঞ্চির নিচে। আবেদনকারীদের ইঞ্জিনিয়ারিং, জীববিজ্ঞান, পদার্থবিজ্ঞান বা গণিতে স্নাতক ডিগ্রি থাকতে হবে, তবে মাস্টার্স ডিগ্রিধারীরা অগ্রাধিকার পাবেন। এছাড়া অংশগ্রহণকারীদের শারীরিক ও মানসিকভাবে সম্পূর্ণ সুস্থ হতে হবে, কোনো বিশেষ খাবারের অ্যালার্জি থাকা চলবে না এবং ঘুমের মধ্যে হাঁটার অভ্যাস থাকা যাবে না। নির্বাচিত স্বেচ্ছাসেবকদের মিশনের আগে ও পরে দুই মাসের প্রশিক্ষণ নিতে হবে এবং টানা ১২ মাস এই কৃত্রিম পরিবেশে বসবাস করতে হবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category