জুলাই অভ্যুত্থানের প্রথম শহীদ আবু সাঈদের দ্বিতীয় শাহাদাত-বার্ষিকী উপলক্ষে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম পীরগঞ্জের বাবনপুর গ্রামে তাঁর কবর জিয়ারত করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) শহীদের নিজ বাসভবন সংলগ্ন কবরস্থানে এই শ্রদ্ধা নিবেদন কর্মসূচি সম্পন্ন হয়।
এই আয়োজনে কেন্দ্রীয় সভাপতির সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন রংপুর-৬ (পীরগঞ্জ) আসনের সংসদ সদস্য মাওলানা নূরুল আমীন, বিশিষ্ট ফার্টিলিটি বিশেষজ্ঞ, সমাজসেবক ও রাজনীতিবিদ ডা. এস এম খালিদুজ্জামান, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় ছাত্রকল্যাণ সম্পাদক রেজাউল করিম শাকিল এবং রংপুর অঞ্চলের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
শহীদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে নুরুল ইসলাম বলেন, আবু সাঈদের অকুতোভয় আত্মত্যাগ আমাদের জাতীয় সংগ্রামের ইতিহাসে এক গৌরবময় অধ্যায়। তাঁর শাহাদাতের মাধ্যমেই জাতির বিবেক জাগ্রত হয়েছে এবং ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের ফলে স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটেছে। এই বীরত্বগাথা আগামী প্রজন্মের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
জিয়ারত শেষে ছাত্রশিবির সভাপতি শহীদ আবু সাঈদের পিতা-মাতা ও ভাইদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং তাঁদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। এ সময় তিনি পরিবারের পাশে থাকার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং শহীদ আবু সাঈদ ফাউন্ডেশন পরিদর্শন করেন।
জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া হবে না উল্লেখ করে নুরুল ইসলাম প্রশাসনের কাছে আবু সাঈদ, আলী রায়হান, মুগ্ধ, শান্ত, ওয়াসিম এবং শহীদ শরীফ ওসমান হাদীসহ সকল শহীদ হত্যার দ্রুত বিচার দাবি করেন। তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার ওপর সংঘটিত বর্বরোচিত হামলা ও গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের বিচারের আওতায় আনতে হবে।
ছাত্রশিবির সভাপতি আরও বলেন, শহীদরা আমাদের জাতীয় সম্পদ। বৈষম্যহীন, ইনসাফভিত্তিক ও সম্প্রীতির বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন নিয়ে তাঁরা আত্মত্যাগ করেছেন, তা বাস্তবায়নে ছাত্রশিবির কাজ করে যাবে। তিনি জুলাই শহীদ, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের স্বপ্নের বাংলাদেশ বিনির্মাণে জুলাই জাতীয় সনদ ও গণভোটের রায় পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের দাবি জানান। ন্যায় ও সাম্যের দেশ প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত এই প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে তিনি ঘোষণা করেন।