ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে আয়োজিত গণভোটের বিষয়ে ক্ষমতাসীন বিএনপির নেতাদের তোলা বিভিন্ন প্রশ্নের তীব্র সমালোচনা করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির শফিকুর রহমান। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশে (আইডিইবি) জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণ শাখা আয়োজিত এই সভায় তিনি বলেন, গণভোটের চারটি প্রশ্ন যদি জাতি না বোঝে, তবে বিএনপি কীভাবে ৩১টি প্রশ্ন বোঝে? এগুলো কেবল গোঁজামিল ও ভাঁওতাবাজি।
বিএনপি গণভোটকে সংবিধানে নেই উল্লেখ করে প্রত্যাখ্যান করছে জানিয়ে শফিকুর রহমান বলেন, তারা প্রশ্ন তুলছেন যে এই চার প্রশ্ন এত জটিল যে বুঝতে চার ঘণ্টা সময় লাগে। অথচ এই প্রশ্নগুলো ১৭ দিন আগে থেকেই গণমাধ্যমে প্রচার করা হয়েছে, কোথাও গোপন রাখা হয়নি। নির্বাচনের আগে সরকারের দুজন মন্ত্রীর বক্তব্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা গণভোট মেনে নিয়ে টোল মওকুফের কথা বলেছিলেন। তখন প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষ গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়েছিলেন। এখন তারা সংখ্যাগরিষ্ঠতার কথা বলে গণভোটের রায় মানতে চাইছেন না। রাজনীতিকরা জাতির সঙ্গে এমন প্রতারণা করলে দেশের মানুষ কোথায় যাবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
সংবিধান সংশোধন কমিটির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে জামায়াত আমির বলেন, এই কমিটির কোনো সাংবিধানিক ভিত্তি নেই। এটি মূলত জুলাই অভ্যুত্থান ও গণভোটের বিষয়টিকে ভুলিয়ে দেওয়ার একটি অপপ্রয়াস। অনুষ্ঠানে প্রতিবেশী দেশ ভারতের সমালোচনা করে তিনি বলেন, একমাত্র জামায়াতে ইসলামীকে ভারত পছন্দ করে না এবং তাদের পক্ষ থেকে জামায়াতকে ‘লাল কার্ড’ দেওয়া হয়েছে। তবে দল এ নিয়ে পরোয়া করে না এবং ভারতের আশ্রয়ের চিন্তা জামায়াত কখনো করে না বলে তিনি স্পষ্ট করেন।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান না হলে তিনি আজ বিরোধীদলীয় নেতা হতে পারতেন না এবং তারেক রহমানও প্রধানমন্ত্রী হতে পারতেন না। সভায় শহীদ পরিবারের সদস্যরা অভিযোগ করেন যে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের লোকজন এলাকায় ফিরে তাদের হুমকি দিচ্ছেন। এ বিষয়ে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, এই হুমকি পুরো জাতিকে দেওয়া হচ্ছে এবং জামায়াত শহীদ পরিবারগুলোর পাশে থাকবে। জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির ও সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের সভাপতিত্বে ও সেক্রেটারি শফিকুল ইসলাম মাসুদের সঞ্চালনায় সভায় আরও বক্তব্য দেন শহীদ মোবারক হোসেনের বাবা রমজান আলী, শহীদ মেহেদী হাসানের বাবা শেখ জামাল, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) হাসিনুর রহমান, মঞ্জুরুল ইসলাম, ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম ও জকসুর ভিপি রিয়াজুল ইসলাম।
এই ৪ প্রশ্ন তো ১৭ দিন আগে থেকে প্রচার করা হয়েছে, সব গণমাধ্যমে খোলাসা করা হয়েছে, গোপন রাখা হয়নি।নির্বাচনের জন্য বিএনপি গণভোট মেনে নিয়েছে এবং ভোট পাওয়ার জন্য টোল মওকুফের কথা বলেছিলাম—সংসদে সরকারের দুজন মন্ত্রীর এমন বক্তব্যের কথা উল্লেখ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, ‘রাজনীতিবিদেরা যদি জাতির সঙ্গে এ রকম প্রতারণা করেন, তাহলে
এখন তাঁরা বলেন, “৫১ শতাংশ মানুষ আমাদের রায় দিয়ে পাঠিয়েছেন, আমরা এটা মানব না।