শারীরিক অসুস্থতাজনিত কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করতে যাচ্ছেন। নির্ভরযোগ্য একাধিক সূত্র বিষয়টি নিশ্চিত করেছে যে, আগামী দু-একদিনের মধ্যেই তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ করে বঙ্গভবন ছাড়ার প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে সংবিধান অনুযায়ী স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেওয়ার প্রক্রিয়াটিও প্রায় চূড়ান্ত করা হয়েছে।
বর্তমানে থাইল্যান্ডে চিকিৎসাধীন স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ আজ শুক্রবারই দেশে ফিরছেন। তার দেশে ফেরার কথা ছিল ২৬ জুলাই, তবে তিনি আজই ফিরছেন। তার উপস্থিতিতেই পদত্যাগের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হবে। বঙ্গভবনের একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি নিজেই তার অধস্তন কর্মকর্তাদের বঙ্গভবন ছেড়ে যাওয়ার মৌখিক নির্দেশনা দিয়েছেন এবং নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র গুছিয়ে নিয়েছেন। পদত্যাগের পর তিনি গুলশানে নিজের বাসায় উঠবেন এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন।
সূত্র বলছে, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিলেও বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেননি। বঙ্গভবনের এক কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রপতি সম্প্রতি স্নায়ুবিষয়ক জটিলতায় ভুগছেন, যার প্রমাণ পাওয়া গেছে সিএমএইচে পরীক্ষার পর। মূলত এই শারীরিক অসুস্থতাই তার পদত্যাগের প্রধান কারণ হিসেবে সামনে এসেছে। তবে রাজনৈতিক অঙ্গনে গুঞ্জন রয়েছে যে, ১৮ মে দেশে ফেরার পর গোয়েন্দা তথ্যে জানা যায়, লন্ডনে থাকাকালীন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে অতি গোপনীয়তায় ফোনালাপ করেছেন তিনি।
২০২৪ সালের জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর সাংবিধানিক পদের মধ্যে তিনি এখনো বহাল আছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এ প্রসঙ্গে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি যদি স্বাস্থ্যগত বা অন্য কোনো কারণে পদত্যাগ করতে চান, তবে সাংবিধানিকভাবে তার সেই সুযোগ রয়েছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো চাপ বা পদক্ষেপ নেই বলে তিনি মন্তব্য করেন। এছাড়া পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রীর ফোনালাপের কোনো তথ্য তাদের কাছে নেই, তবে অভিযোগ থাকলে তা তদন্ত করা হবে।
নতুন রাষ্ট্রপতি নিয়োগের বিষয়টি এখন রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করলে নতুন নিয়োগ না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। পরবর্তী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে সরকার একজন যোগ্য ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি পদে দেখতে চায়। সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও ড. আবদুল মঈন খানসহ বেশ কয়েকজনের নাম আলোচনায় রয়েছে। এছাড়া সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক নিযুক্ত এক সিনিয়র সচিব এবং ৪০ থেকে ৬০ বছর বয়সী অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়েও আলোচনা চলছে।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন মো. সাহাবুদ্দিন। ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তিনি বলেছিলেন, ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে তিনি পদত্যাগ করতে চান। সে সময় তিনি আরও বলেন, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে তিনি অপমানিত বোধ করছেন।