July 24, 2026, 8:32 am

ইরানের হামলায় রাশিয়ার সহায়তা নিয়ে তদন্তে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা

Reporter Name
  • Update Time : Friday, July 24, 2026
  • 0 Time View

ম্যানিলায় দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর এক শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের বৈঠকে ইউক্রেন যুদ্ধের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এমন এক সময়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো, যখন নতুন কিছু প্রতিবেদনে দাবি করা হচ্ছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনাগুলোতে ইরানের হামলায় রাশিয়া প্রকাশ্যে যা স্বীকার করেছে, তার চেয়েও বেশি সক্রিয় ভূমিকা পালন করছে।

ইরানে যুদ্ধের শুরুর দিকেই মার্কিন সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি (সিআইএ) সংশ্লিষ্ট স্থাপনায় হামলার খবর প্রকাশ্যে আসে। দ্য ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর তৃতীয় দিনে রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসের সিআইএ স্টেশন লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছিল। পরবর্তীতে ৬ মার্চ সিএনএন জানায়, উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন সেনা ও সামরিক বিমানের অবস্থান শনাক্ত করতে মস্কো তেহরানকে সহায়তা করছিল। সর্বশেষ বুধবার রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সৌদি আরবে মার্কিন দূতাবাসে অবস্থিত সিআইএর স্থাপনাসহ কয়েকটি লক্ষ্যবস্তুতে ইরানের ড্রোন হামলার কার্যকারিতা ও নিখুঁত লক্ষ্যভেদের পেছনে রুশ সম্পৃক্ততার বিষয়টি মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তদন্ত করে দেখছে।

প্যারিসের সায়েন্সেস পো বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর ইন্টারন্যাশনাল রিসার্চের সহকারী অধ্যাপক নিকোল গ্রায়েভস্কির মতে, ইরানের হামলার লক্ষ্য নির্ধারণে রাশিয়ার ভূমিকা থাকার সম্ভাবনা বাস্তবসম্মত। তিনি আল জাজিরাকে জানান, ইরানের সাম্প্রতিক অনেক হামলা অতীতের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত ও নিখুঁত। তার মতে, ইরানের নিজস্ব মহাকাশ সক্ষমতা বা সামরিক মানের উপগ্রহ পর্যাপ্ত নয়, তাই এক্ষেত্রে তারা রাশিয়ার সঙ্গে কোনো সমঝোতায় পৌঁছে থাকতে পারে। তবে তিনি এও স্বীকার করেন যে, ইরানের নিজস্ব মানব গোয়েন্দা নেটওয়ার্কও লক্ষ্য নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মস্কো ও তেহরানের সামরিক সহযোগিতা কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে আগ্রাসনের পর ইরান রাশিয়াকে শাহেদ ড্রোন ও ফাতেহ-১১০ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহ করে। গত বছর উভয় দেশ ২০ বছরের সমন্বিত কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তি স্বাক্ষর করলেও রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী আন্দ্রেই রুদেঙ্কো এটিকে সামরিক জোট হিসেবে অভিহিত করতে নারাজ। অভিযোগ রয়েছে, কোমেটা-এম নামক অ্যান্টি-জ্যামিং নেভিগেশন ব্যবস্থা সরবরাহ করে রাশিয়া শাহেদ-১৩৬ ড্রোনের নির্ভুলতা বাড়াতে সহায়তা করেছে।

গ্রায়েভস্কির মতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাত রাশিয়ার কৌশলগত স্বার্থ রক্ষা করছে, কারণ এটি ইউক্রেন যুদ্ধ থেকে আন্তর্জাতিক মনোযোগ সরিয়ে নিচ্ছে। তিনি মনে করেন, রাশিয়া চায় না ইরান পরাজিত হোক, তাই তারা ইরানকে টিকে থাকার মতো প্রয়োজনীয় সহায়তা দিচ্ছে। তবে তিনি আরও বলেন, রাশিয়ার গোয়েন্দা সহায়তা ইরানের সক্ষমতা কিছুটা বাড়ালেও, মূলত ইরানের নিজস্ব ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতাই যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারিণে বেশি প্রভাব ফেলছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category