July 24, 2026, 5:57 am

নির্ধারিত ১৮০ দিনে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি ৬৩ বিশিষ্টজনের

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, July 23, 2026
  • 2 Time View

জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্র সংস্কারের লক্ষ্যে ঘোষিত অঙ্গীকার অনুযায়ী নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়েছেন দেশের ৬৩ জন বিশিষ্ট ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা। আজ বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে তাঁরা এই দাবি জানান। বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীরা সতর্ক করে বলেছেন, গণরায়ের প্রতি অনীহা দেখালে এবং রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়ায় অনিশ্চয়তা তৈরি হলে রাষ্ট্রীয় রূপান্তরের সম্ভাবনা বিপন্ন হতে পারে।

বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অর্জিত ঐতিহাসিক সুযোগ কাজে লাগিয়ে রাষ্ট্রকাঠামোর সংস্কার সম্পন্ন করার পরিবর্তে সাম্প্রতিক সময়ে রাজনৈতিক দ্বিধা ও অনিশ্চয়তার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে এই পরিষদ গঠিত হওয়ার কথা ছিল। আদেশ অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনের ফল ঘোষণার ৩০ দিনের মধ্যে সংসদের প্রথম অধিবেশন আহ্বানের মতোই পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকার কথা ছিল। এই আদেশ অনুসারে গত ১৫ মার্চ ছিল পরিষদের প্রথম অধিবেশন ডাকার শেষ সময়, তবে রাষ্ট্রপতির পক্ষ থেকে তা আহ্বান করা হয়নি।

বিশিষ্টজনদের মতে, জুলাই গণ–অভ্যুত্থান কেবল সরকার পরিবর্তনের ঘটনা নয়, বরং রাষ্ট্র, রাজনীতি ও নাগরিক সম্পর্ককে নতুন ভিত্তির ওপর দাঁড় করানোর একটি ঐতিহাসিক আহ্বান। তাঁরা সংসদীয় প্রক্রিয়ার গুরুত্ব স্বীকার করেও মনে করেন, গণ–অভ্যুত্থানের বাস্তবতা ও জনগণের প্রত্যাশার আলোকে সাংবিধানিক রূপান্তরের কার্যকর পথ নিশ্চিত করা জরুরি। কোনো রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার বৈধতা শুধু নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করে না, বরং জনগণের ঐতিহাসিক আকাঙ্ক্ষা ও রাষ্ট্র পুনর্গঠনের প্রতিশ্রুতির ওপরও ভিত্তি করে।

বিবৃতিতে বর্তমান পরিস্থিতিতে রাষ্ট্র সংস্কার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হলে অগণতান্ত্রিক ও প্রতিক্রিয়াশীল শক্তির উত্থানের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। রাজনৈতিক শূন্যতা দীর্ঘস্থায়ী হলে তা রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে তাঁরা মনে করেন।

বিবৃতিতে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়েছে: জুলাই সনদের অঙ্গীকার অনুযায়ী নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে একটি স্বাধীন, কার্যকর ও প্রতিনিধিত্বশীল সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন; গণ–অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার প্রতি সম্মান প্রদর্শন; এবং দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে রাষ্ট্রীয় রূপান্তরের ধারাবাহিকতা রক্ষা। একই সঙ্গে দেশের জনগণ ও জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের চেতনায় বিশ্বাসী গণতান্ত্রিক শক্তির প্রতি এই প্রক্রিয়ায় সক্রিয় ভূমিকা পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে রয়েছেন রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সভাপতি হাসনাত কাইয়ূম, জেএসডির সাধারণ সম্পাদক শহীদ উদ্দিন মাহমুদ স্বপন, অহিংস গণ–অভ্যুত্থান বাংলাদেশের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবুল বাশার, এনপিএ মুখপাত্র ফেরদৌস আরা রুমী, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শরীফ ভূঁইয়া, আইইউবির অধ্যাপক বখতিয়ার আহমেদ এবং গণভোট বাস্তবায়ন নাগরিক ফোরামের আহ্বায়ক ফাহিম মাশরুরসহ বিশিষ্ট শিক্ষক, গবেষক ও মানবাধিকারকর্মীরা।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category