বাংলাদেশের বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক জল্পনা-কল্পনা চলছে। সরকার এবং ক্ষমতাসীন দল বিএনপির একাধিক দায়িত্বশীল সূত্রের দাবি, শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতি শিগগিরই তার দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়াতে পারেন। তবে এখন পর্যন্ত সরকার কিংবা বঙ্গভবনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে কোনো বিবৃতি প্রদান করা হয়নি।
রাষ্ট্রপতির কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে যে, খুব দ্রুত তার পদত্যাগের একটি সম্ভাবনা রয়েছে। এদিকে বঙ্গভবন সংশ্লিষ্ট অপর একটি সূত্রের দাবি, রাষ্ট্রপতি তার অধস্তন কর্মকর্তাদের দ্রুত বঙ্গভবন ছেড়ে দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। পদত্যাগের পর তিনি কিছু সময় বিশ্রাম নেওয়ার পাশাপাশি চিকিৎসার জন্য বিদেশে যেতে পারেন বলেও ওই সূত্রটি জানিয়েছে।
রাষ্ট্রপতির সম্ভাব্য উত্তরসূরি কে হবেন, তা নিয়েও রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিভিন্ন সূত্রের দাবি অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারের গুরুত্বপূর্ণ পদে চুক্তিভিত্তিক দায়িত্ব পালনকারী একাধিক সচিবের নাম সম্ভাব্য রাষ্ট্রপতি হিসেবে বিবেচনায় রয়েছে। এর আগে বিএনপির কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নামও আলোচনায় উঠে এসেছিল, তবে তারা এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বিএনপির দলীয় সংসদ সদস্য শাহাদাৎ হোসেন সেলিম জানিয়েছেন, রাষ্ট্রপতি পদে মনোনয়ন নিয়ে কোনো ধরনের আলোচনা তার জানা নেই। এছাড়া দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন ও বেগম সেলিমা রহমানও বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন বলে জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল মো. সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। সংবিধানের ৫০(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি স্পিকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্র দিয়ে পদত্যাগ করতে পারেন। রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত স্পিকার দায়িত্ব পালন করবেন এবং পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ২০২৮ সালের এপ্রিলে তার পাঁচ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও বর্তমানে তার সম্ভাব্য পদত্যাগ নিয়ে চলমান আলোচনা এখনো আনুষ্ঠানিক রূপ পায়নি।