ভারতের বিশিষ্ট সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে সরকারি হাসপাতালে ‘অবৈধভাবে আটকে’ রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো। ওয়াংচুককে তার পছন্দের কোনো বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের অনুমতি চেয়ে তিনি আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে গীতাঞ্জলি আংমো জানান, পরিবারের পক্ষ থেকে বারবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সোনম ওয়াংচুককে ছাড়পত্র দিচ্ছে না কিংবা তাকে অন্য কোথাও স্থানান্তরের অনুমতি দিচ্ছে না।
এর একদিন আগে, নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা সোনম ওয়াংচুকের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তাকে দিল্লির সরকারি সফদরজং হাসপাতালে নিয়ে যান। এদিকে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ৫৯ বছর বয়সী ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থা বর্তমানে স্থিতিশীল। তবে তার কিছু রক্তের পরীক্ষার ফলাফল এখনো স্বাভাবিক না হওয়ায় তাকে নিবিড় চিকিৎসা ও সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণে রাখা প্রয়োজন বলে তারা দাবি করেছে।
গত ২৮ জুন থেকে অনশন কর্মসূচি শুরু করেন সোনম ওয়াংচুক। ভারতের যুবকদের গঠিত ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে তিনি এই কর্মসূচি পালন করছেন। মে মাসে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন পরীক্ষার প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এই আন্দোলন চলছে। এই আন্দোলনকে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারের বিরুদ্ধে একটি গণ আন্দোলন হিসেবে দেখা হচ্ছে এবং ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে এর প্রতি সমর্থন জানানো হয়েছে।
শুক্রবার ওয়াংচুক সরকারি চিকিৎসকদের জানিয়েছিলেন যে তিনি হাসপাতালে যেতে আগ্রহী নন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের ভাষ্যমতে, শনিবার তিনি চিকিৎসাসেবা নিতেও অস্বীকৃতি জানান। রোববার গীতাঞ্জলি আংমো অভিযোগ করেন, হাসপাতালে তাদের চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। তিনি জানান, তাদের ওয়ার্ডে প্রায় ৩০ জন পুলিশ সদস্য মোতায়েন রয়েছে এবং পুরো হাসপাতালে শতাধিক পুলিশ অবস্থান করছে, যা তাদের চলাফেরাকে মারাত্মকভাবে সীমিত করেছে। তবে দিল্লি পুলিশ এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে বৃহস্পতিবার দিল্লি হাইকোর্ট ওয়াংচুকের শারীরিক অবস্থার ওপর নিবিড় নজর রাখতে এবং প্রয়োজন হলে চিকিৎসা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তার শারীরিক অবস্থার অবনতির পর জোর করে খাদ্য খাওয়ানোর আবেদন জানিয়ে আদালতে একটি আবেদন করা হয়েছিল। অন্যদিকে, ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি) ঘোষণা দিয়েছে, সোমবার পার্লামেন্টের নতুন অধিবেশনের প্রথম দিনে তারা সংসদ ভবনের দিকে পদযাত্রা করবে এবং শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগসহ তাদের দাবিগুলো পুনর্ব্যক্ত করবে।