July 20, 2026, 3:29 am

উত্তর প্রদেশে মুসলিম স্থাপনা উচ্ছেদে রাজনৈতিক ফায়দার অভিযোগ বিরোধীদের

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, July 19, 2026
  • 5 Time View

উত্তর প্রদেশ সরকার ও বিজেপির বিরুদ্ধে মুসলিম স্থাপনাগুলোকে পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করার গুরুতর অভিযোগ এনেছে বিরোধী দলগুলো। তাদের দাবি, আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ফায়দা হাসিল এবং সমাজে সাম্প্রদায়িক মেরুকরণ সৃষ্টির উদ্দেশ্যেই এই উচ্ছেদ অভিযানগুলো চালানো হচ্ছে।

এই অভিযোগের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দু হলো রামপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত। সমাজবাদী পার্টির (এসপি) নেতা আজম খানের প্রতিষ্ঠিত মোহাম্মদ আলী জওহর বিশ্ববিদ্যালয়ের ৪০টি ভবনের মধ্যে ৩৮টি ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সম্ভল জেলাসহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে চলমান উচ্ছেদ অভিযানগুলোকেও বিরোধীরা একই কৌশলের অংশ বলে মনে করছে।

গাজীপুরের লোকসভা সদস্য ও এসপি নেতা আফজল আনসারী এই কার্যক্রমকে একটি ‘জঘন্য পরিকল্পনা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তার মতে, অভ্যন্তরীণ জরিপে বিজেপির অবস্থান দুর্বল হওয়ায় তারা নির্বাচনী সুবিধা পেতে মরিয়া। তিনি সতর্ক করে বলেন, আগামী ছয় মাসের মধ্যে বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, অবৈধ দখলের অজুহাতে এই ধরনের অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

কংগ্রেসও এই ইস্যুতে বিজেপির তীব্র সমালোচনা করেছে। দলটির জাতীয় সম্পাদক শাহনওয়াজ আলমের মতে, উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করতেই সমাজে সাম্প্রদায়িক বিভাজন তৈরির চেষ্টা চলছে। তিনি আরও বলেন, বিজেপির এই লক্ষ্যভিত্তিক কর্মকাণ্ড ভারতের বহুত্ববাদী আদর্শের পরিপন্থী এবং এর মাধ্যমে মানুষের মনে প্রতিদিন সাম্প্রদায়িকতা গেঁথে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে বিরোধী নেতারা সুপ্রিম কোর্টের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। তাদের যুক্তি, সংবিধানের অভিভাবক হিসেবে আদালতের দায়িত্ব হলো নির্বাহী বিভাগের ক্ষমতার অপব্যবহার রোধ করে নাগরিকদের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করা। তবে এসব অভিযোগ বরাবরই নাকচ করে দিয়েছে উত্তর প্রদেশ সরকার ও বিজেপি। তাদের দাবি, এই উচ্ছেদ অভিযানগুলো সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়ার অংশ এবং অবৈধ দখল ও নির্মাণের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ীই ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category