বিশ্বকাপের মেগা ফাইনালে মাঠে উপস্থিত থাকবেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি। যদিও রাজনীতিতে বিপরীত মেরুর এই দুই নেতার আলাদা করে সাক্ষাতের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে নিশ্চিত করেছেন মেয়রের মুখপাত্র। এর আগে গত মাসে এনবিএ ফাইনালে তাদের দুজনকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল, যেখানে ট্রাম্পের উপস্থিতিকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন নিরাপত্তার কারণে দর্শকদের নানা ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল। বিপরীতে মেয়র জোহরান মামদানি গ্যালারির সাধারণ সারিতে বসে খেলা উপভোগ করেছিলেন।
ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফ্যান্তিনো জানিয়েছেন, বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের হাতে ট্রফি তুলে দেওয়ার সময় তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গেই থাকবেন। টুর্নামেন্টের শুরুর দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড ফোলারিন বালোগানের নিষেধাজ্ঞা নিয়ে ফিফা প্রধানের সঙ্গে ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠতা ও হস্তক্ষেপের বিষয়টি নিয়ে বেশ বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও স্পেনের প্রধানমন্ত্রীর মতো বিশ্বনেতাদের উপস্থিতির কারণে ফাইনাল ম্যাচটিকে ফেডারেল কর্তৃপক্ষ ‘লেভেল ওয়ান স্পেশাল ইভেন্ট’ হিসেবে ঘোষণা করেছে, যার সুরক্ষায় আকাশসীমা নিয়ন্ত্রণসহ কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা মোতায়েন থাকবে।
ট্রাম্পকে চলতি বিশ্বকাপে গ্যালারিতে দেখা না গেলেও মেয়র মামদানি শুরু থেকেই সরব ছিলেন। তিনি নিজেকে ফুটবল পাগল হিসেবে দাবি করে নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত প্রথম ম্যাচে মাঠে উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া তিনি ‘দ্য মর্নিং পিচ’ অনুষ্ঠান সঞ্চালনা, ওয়াচ পার্টির আয়োজন এবং ফিফাকে রাজি করিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য ৫০ ডলার মূল্যের ১,০০০টি টিকিটের ব্যবস্থা করেছিলেন। সাউথ ব্রঙ্কসের রেস্তোরাঁ থেকে শুরু করে রাইকার্স আইল্যান্ড কারাগার পর্যন্ত নানা জায়গায় তাকে খেলা দেখতে দেখা গেছে।
ফাইনালে ট্রাম্প কিংবা মামদানি—কে কোন পক্ষ নিচ্ছেন, তা এখনো রহস্য। সম্প্রতি নিউইয়র্কে ফিফা ইভেন্টে ট্রাম্প আর্জেন্টিনার ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতির সঙ্গে কথা বলেছেন এবং মেসির পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছেন। অন্যদিকে, নিজের পছন্দের দল মরক্কো বিদায় নেওয়ায় মামদানি রসিকতা করে বলেছেন, তিনি যারই নাম নিচ্ছেন সেই দলই হেরে যাচ্ছে। ফাইনাল নিয়ে তিনি কোনো নির্দিষ্ট দলের নাম নিতে রাজি হননি।