আগামী মাসের মাঝামাঝি সময়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রবাসী কার্ডের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম শুরু করতে যাচ্ছে সরকার। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক বৈঠকে এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রবাসী কার্ডের মাধ্যমে প্রবাসীদের ক্ষমতায়ন, সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধি, আর্থিক প্রণোদনা প্রদান এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকিং সুবিধাসহ ডুয়াল কারেন্সি কার্ডের সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন জানিয়েছেন, সরকারের নির্বাচনি অঙ্গীকারের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আগে সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড ও ক্রীড়া কার্ডের মতো কর্মসূচি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। প্রবাসী কার্ডের প্রথম পর্যায়ে জনতা ব্যাংকের মাধ্যমে ডেবিট কার্ড ইস্যু করা হবে। পরবর্তী পর্যায়ে প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের মাধ্যমে এর যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা রয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো এই বছরের ডিসেম্বর মাসের মধ্যে ৫০ হাজার এবং আগামী বছরের জুন মাসের মধ্যে দুই লাখ প্রবাসী কার্ড বিতরণ সম্পন্ন করা।
এই কার্ডের আওতায় প্রবাসীরা এয়ারপোর্ট লাউঞ্জ ব্যবহার, বিশেষ ইমিগ্রেশন বুথ, বিমান টিকিট ও হোটেল বুকিংয়ে ডিসকাউন্ট, সিগনেচার কার্ডে এয়ারপোর্ট পিক অ্যান্ড ড্রপ, সরকারি হাসপাতালে প্রবাসী সেবা বুথসহ নানা সুবিধা পাবেন। এছাড়া কার্ডধারীর মৃত্যুতে বিনা খরচে লাশ পরিবহন, প্রবাস ফেরতদের পুনর্বাসন, বিমা সুবিধা, জমি রেজিস্ট্রেশন, নামজারি ও বৈদেশিক বিনিয়োগে অগ্রাধিকার পাওয়া যাবে। একই সাথে রেমিট্যান্স রিওয়ার্ড পয়েন্ট, ক্রেডিট স্কোরিং, ঋণ সুবিধা এবং এনআইডি ও পাসপোর্ট সংক্রান্ত কনস্যুলার সেবায় বিশেষ অগ্রাধিকার থাকবে।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষকে আধুনিক ও সময়োপযোগী করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়া বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত সকল প্রবাসী যাতে এই কার্ডের সুবিধার আওতায় আসতে পারেন, সে বিষয়েও সংশ্লিষ্টদের নজর দিতে বলেছেন তিনি। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এই সভায় বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী, প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ ও মাহদী আমিন, সচিব মোখতার আহমেদ এবং বিএমইটির মহাপরিচালক জামিল আহমেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আজ শনিবার (১৮ জুলাই) দুপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে প্রবাসী কার্ড সম্পর্কিত এক সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের উপপ্রেস সচিব শাহাদাৎ স্বাধীন।