উজানের ঢল ও অব্যাহত ভারী বৃষ্টির কারণে দেশের বিভিন্ন নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আগামী তিন দিন এই পানি বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকতে পারে। এর ফলে আগামী ২০ থেকে ২২ জুলাইয়ের মধ্যে দেশের আরও ছয়টি জেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার জোরালো আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
শনিবার (১৭ জুলাই) দেওয়া পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ব্রহ্মপুত্র-নদ ও যমুনা অববাহিকার পানি আগামী পাঁচ দিন বাড়তে পারে। এই পরিস্থিতির কারণে কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা, জামালপুর, বগুড়া, সিরাজগঞ্জ ও টাঙ্গাইলের নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে।
বর্তমানে সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে কুশিয়ারা নদীর পানি বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার এবং সুনামগঞ্জের মারকুলিতে ৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া সুরমা নদীর ছাতক পয়েন্ট ও কুশিয়ারার শেরপুর পয়েন্টে পানি সতর্কসীমায় অবস্থান করছে। উত্তরাঞ্চলের তিস্তা নদীর ডালিয়া, কাউনিয়া, তারাপুর ও সরিষাবাড়ী পয়েন্টেও পানি সতর্কসীমায় রয়েছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের দেওয়া তথ্যমতে, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর কয়েকটি স্থানে পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করতে পারে। এতে লালমনিরহাট, নীলফামারী, রংপুর ও কুড়িগ্রামের নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
সিলেট অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষণ নেই। আগামী তিন দিন সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বাড়ার পূর্বাভাস থাকায় সিলেট ও সুনামগঞ্জের পরিস্থিতি আরও অবনতির দিকে যেতে পারে। বন্যার এই পরিস্থিতির পেছনে উজানের ভারী বৃষ্টিপাতকে প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নীলফামারীর ডালিয়ায় ১৯০ মিলিমিটার, ছাতকে ৮৯ মিলিমিটার, ঠাকুরগাঁওয়ে ৮২ মিলিমিটার এবং সিলেটে ৬৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
পাশাপাশি বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় নদী যেমন কীর্তনখোলা, লোয়ার-মেঘনা, পশুর, ইছামতি, কর্ণফুলী, লিটল ফেনী এবং নোয়াখালী খালে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জোয়ার বিরাজ করছে। আগামী একদিন এই নদীগুলোতে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জোয়ারের প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।