July 26, 2026, 6:53 pm

দেশে বিক্রি হওয়া প্রতি চারটি টুথপেস্টের তিনটিতেই মিলল মাইক্রোপ্লাস্টিক

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, July 26, 2026
  • 0 Time View

দেশে বাজারে প্রচলিত টুথপেস্ট নিয়ে পরিচালিত এক বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে। এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (এসডো) জানিয়েছে, দেশে বিক্রি হওয়া প্রতি চারটি টুথপেস্টের মধ্যে প্রায় তিনটিতেই মাইক্রোপ্লাস্টিকের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। এসডোর বৈজ্ঞানিক গবেষণায় ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে (৭৬.৫%) মাইক্রোপ্লাস্টিক শনাক্ত হয়েছে। প্রতিটি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা পাওয়া গেছে। উদ্বেগের বিষয় হলো, শিশুদের জন্য বিক্রি হওয়া ৬টি টুথপেস্টের মধ্যে ৪টিতেই (৬৬.৭%) মাইক্রোপ্লাস্টিক পাওয়া গেছে।

রোববার রাজধানীর লালমাটিয়ায় এসডোর প্রধান কার্যালয়ে এই গবেষণা প্রতিবেদন উপস্থাপন করা হয়। সংস্থাটি জানায়, ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত দেশব্যাপী এই সমন্বিত গবেষণাটি পরিচালিত হয়েছে। গবেষণার অংশ হিসেবে ২ হাজার ৭৬০ জন ভোক্তার ওপর জরিপ চালানো হয় এবং জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এনভায়রনমেন্টাল হেলথ অ্যান্ড ইকোটক্সিকোলজি ল্যাবরেটরিতে ১৯টি ব্র্যান্ডের টুথপেস্ট পরীক্ষা করা হয়।

গবেষণায় দেখা গেছে, শিশুদের জন্য বাজারজাত করা ৬টি টুথপেস্টের মধ্যে ৪টিতেই (৬৬.৭%) মাইক্রোপ্লাস্টিক রয়েছে। এছাড়া পরীক্ষা করা টুথপেস্টগুলো বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনামে উৎপাদিত। দেশের তৈরি ও আমদানিকৃত—উভয় ধরনের পণ্যেই এই দূষণ পাওয়া গেছে। তবে উদ্বেগের বিষয় হলো, কোনো টুথপেস্টের মোড়কেই মাইক্রোপ্লাস্টিক বা কৃত্রিম পলিমার ব্যবহারের তথ্য উল্লেখ ছিল না।

এসডোর চেয়ারপারসন সৈয়দ মার্গুব মোর্শেদ বলেন, ভালো নীতিমালা প্রণয়নে নির্ভরযোগ্য তথ্যের কোনো বিকল্প নেই। এসডোর মহাসচিব ড. শাহরিয়ার হোসেন জানান, অধিকাংশ মানুষই জানেন না যে নিয়মিত ব্যবহৃত টুথপেস্টেও মাইক্রোপ্লাস্টিক থাকতে পারে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. মোশাররফ হোসেন খন্দকার সতর্ক করে বলেন, মাইক্রোপ্লাস্টিক দাঁতের এনামেলের ওপর মারাত্মক ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।

বিএসটিআইয়ের উপ-পরিচালক মো. মনজুরুল করিম জানান, বর্তমানে টুথপেস্টের অনুমোদিত উপাদানের তালিকায় মাইক্রোপ্লাস্টিক নেই, তবে গবেষণার বিষয়টি আমলে নিয়ে দ্রুত মানদণ্ড সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। পরিবেশ অধিদপ্তরের ইন্সপেক্টর মাহমুদা তামান্না খানও এ বিষয়ে বিএসটিআইকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় অবিলম্বে জাতীয় মানদণ্ড নির্ধারণ এবং নিয়মিত নজরদারি জোরদার করা জরুরি।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category