শারীরিক অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। তার পদত্যাগপত্র গ্রহণের পর সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন। শুক্রবার জাতীয় সংসদ ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
স্পিকার জানান, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ৫০ অনুচ্ছেদের ৩ দফা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন তার স্বাক্ষরযুক্ত পদত্যাগপত্র শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬ (৯ শ্রাবণ ১৪৩৩) বিকেল ৪টা ৫১ মিনিটে তার কাছে দাখিল করেন। পদত্যাগপত্রটি গ্রহণের পর সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। এছাড়া রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্রটি জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের রেকর্ডে সংরক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে স্পিকার জানান, মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন লিখিতভাবে জানিয়েছেন যে তিনি গুরুতর হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি জটিলতায় ভুগছেন। তার হৃদযন্ত্রে বাইপাস সার্জারি হয়েছে এবং সম্প্রতি স্বাস্থ্য পরীক্ষায় তার অটোনমিক নিউরোপ্যাথি রোগ শনাক্ত হয়েছে। এই রোগের কারণে তিনি মাঝে মাঝে অচেতন হয়ে পড়েন। শারীরিক ও মানসিক অসমর্থতার কারণে রাষ্ট্রপতির মতো সাংবিধানিক পদের দায়িত্ব পালন করা তার পক্ষে আর সম্ভব হচ্ছে না এবং দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার প্রয়োজন হওয়ায় তিনি পদত্যাগ করেছেন।
হাফিজ উদ্দিন আরও বলেন, সংবিধান অনুযায়ী তিনি যেদিন স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছিলেন, সেদিনই প্রয়োজন হলে ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের শপথও নিয়েছেন। ডেপুটি স্পিকারও দায়িত্ব গ্রহণের সময় একই শপথ নেন যাতে স্পিকারের পদ শূন্য থাকলে তিনি দায়িত্ব পালন করতে পারেন।
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে বিভিন্ন মহলে চলা আলোচনা প্রসঙ্গে স্পিকার বলেন, তিনি মাফিয়া সরকারের আমলে নির্বাচিত হলেও বর্তমানে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের প্রতি সমর্থন ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করেছেন। তিনি তার মঙ্গল ও সুস্বাস্থ্য কামনা করেন এবং প্রকৃত বিষয়টি শারীরিক অসমর্থতা বলেই পুনর্ব্যক্ত করেন।