দায়িত্ব গ্রহণের সোয়া তিন বছরের মাথায় প্রেসিডেন্ট পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার বিকাল ৪টা ২৫ মিনিটে প্রেসিডেন্টের সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এএসএম বাহাউদ্দিন বঙ্গভবন থেকে প্রেসিডেন্টের স্বাক্ষরকৃত পদত্যাগপত্রটি নিয়ে জাতীয় সংসদে পৌঁছান। জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম প্রেসিডেন্টের এই পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেছেন। প্রেসিডেন্টের পদত্যাগের পর এখন থেকে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে শুক্রবার বিকাল ৫টার দিকে জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে একটি জরুরি ব্রিফিং করবেন স্পিকার।
উল্লেখ্য যে, ২০২৩ সালের ২৪শে এপ্রিল মো. সাহাবুদ্দিন পাঁচ বছরের জন্য দেশের ২২তম প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ই আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই তাকে অপসারণের দাবি জোরালো হয়ে ওঠে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল তাকে অপসারণ ও গ্রেপ্তারের দাবিতে বঙ্গভবন ঘেরাওসহ নানা কর্মসূচি পালন করলেও, অন্তর্বর্তী সরকার অভ্যুত্থান পরবর্তী পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এতদিন তাকে পদে বহাল রেখেছিল। তবে বিষয়টি সবসময় সরকারের পর্যবেক্ষণে ছিল।
গত মে মাসে চিকিৎসার জন্য লন্ডন সফরের সময় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে টেলিফোনে মো. সাহাবুদ্দিনের কথোপকথনের গোয়েন্দা তথ্য সামনে আসার পর পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, লন্ডন থেকে তিনি দিল্লিতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন, যা অনেকে শপথ ভঙ্গের শামিল এবং ফ্যাসিস্টদের পক্ষে কাজ করার প্রমাণ হিসেবে দেখছেন। এই তথ্য পাওয়ার পরই সরকারের পক্ষ থেকে বঙ্গভবনে বিশেষ বার্তা পাঠানো হয় এবং তাকে সরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়। জুলাই মাসের মধ্যেই এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার সরকারি ইচ্ছার বিষয়টি তাকে অবহিত করা হয়েছিল। ২০২৮ সালের এপ্রিলে মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও, নির্ধারিত সময়ের পৌনে দুই বছর আগেই তিনি পদত্যাগ করলেন।