রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করেছেন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকালে গণমাধ্যমকে নিজের পদত্যাগের বিষয়টি নিজেই নিশ্চিত করেছেন তিনি। পদত্যাগের বিষয়ে জানতে চাইলে সাহাবুদ্দিন বলেন, ‘এটা তো সর্বজনবিদিত, আমার মুখ থেকে শুনে কী লাভ? আই অ্যাম সিক, সো ইট ইজ ডান।’ পদত্যাগপত্রে স্বাক্ষর করা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘বলে দিছি, বুঝে নেন।’
রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের আলোচনার মধ্যেই জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম তার বিদেশ সফর সংক্ষেপ করে শুক্রবার দুপুরে দেশে ফিরেছেন। চিকিৎসার জন্য ব্যাংককে অবস্থানরত স্পিকারের আগামী ২৬ জুলাই দেশে ফেরার নির্ধারিত সূচি থাকলেও গুঞ্জনের প্রেক্ষাপটে তিনি দুদিন আগেই ফিরে আসেন। দেশে ফেরার পর তিনি জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডেকেছেন। ধারণা করা হচ্ছে, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে তিনি কথা বলবেন।
সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদের দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর ৯০ দিনের মধ্যে জাতীয় সংসদ নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবে।
বঙ্গভবনের দায়িত্বশীল এক কর্মকর্তা জানান, রাষ্ট্রপতি সম্প্রতি বলেছিলেন যে, তাকে চলে যেতে বলা হয়েছে এবং তাকে বঙ্গভবন ছেড়ে দেওয়ার প্রস্তুতি নিতে বলা হয়েছিল। তবে ‘ওরা’ বলতে কাদের বুঝিয়েছেন, সে বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে তিনি রাজি হননি।
উল্লেখ্য, মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন এবং ২০২৮ সালের এপ্রিলে তার মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ছিল। তিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে একমাত্র রাষ্ট্রপতি, যিনি সময়ের ব্যবধানে তিনজন সরকারপ্রধানকে শপথবাক্য পাঠ করিয়েছেন।