ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) দাবি করেছে যে, হরমুজ প্রণালির একটি মাইন পাতা নৌপথ অতিক্রমের সময় দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে বিস্ফোরণ ঘটেছে এবং সেগুলোতে আগুন ধরে গেছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ফার্সের বরাত দিয়ে বিবিসি এ তথ্য জানিয়েছে। তবে এই দাবি পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তারা জানিয়েছে, আইআরজিসির অধিকাংশ দাবির মতো এটিও একটি মিথ্যা তথ্য।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাময়িক যুদ্ধবিরতি চুক্তি শেষ হয়ে গেছে বলে ঘোষণা করার পর থেকে ইরানের ওপর টানা সপ্তম রাতের মতো হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। সেন্টকমের দাবি অনুযায়ী, মার্কিন কমান্ডার ইন চিফের নির্দেশে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যেই এসব অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। ইরানের মধ্যাঞ্চলীয় শহর ইয়াজদ, কেশম দ্বীপ এবং বন্দর আব্বাসে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হরমুজ প্রণালিতে এই পাল্টাপাল্টি হামলার জেরে জাহাজ চলাচল প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে। স্বাভাবিক সময়ে বিশ্বের মোট তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই রুট দিয়ে পরিবহন করা হয়। এর আগে শুক্রবার ইরানের সশস্ত্র বাহিনী দাবি করেছিল যে, উপসাগরীয় অঞ্চলের কুয়েত, বাহরাইন, জর্ডান এবং প্রথমবারের মতো সিরিয়ায় থাকা মার্কিন সামরিক স্থাপনায় তারা হামলা চালিয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই দাবি অস্বীকার করেছে। কুয়েতি কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, ড্রোন হামলায় তাদের বেশ কয়েকজন সেনা আহত এবং একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও পানি লবণমুক্তকরণ স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া সিবিএস নিউজের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে জর্ডানের দুটি সামরিক ঘাঁটিতে ইরানের হামলায় বেশ কয়েকজন মার্কিন সেনা আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, ইরানের বেসামরিক অবকাঠামোয় হামলার অভিযোগও অস্বীকার করেছে ওয়াশিংটন। যদিও তেহরান দাবি করেছিল যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের সেতু, রেলস্টেশন ও বিমানবন্দরের মতো বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তবে মার্কিন প্রশাসনের দাবি, তাদের লক্ষ্যবস্তু কেবল সামরিক লজিস্টিক অবকাঠামোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ। হরমোজগান প্রদেশের স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, হামলায় সাতজন নিহত হয়েছেন। বিবিসি ভেরিফাই গারিভেহ সেতুতে ক্ষয়ক্ষতির ভিডিও বিশ্লেষণ করে রাতের বেলা আগুনের গোলা এবং দিনের আলোয় সেতুর একটি অংশ ধসে পড়ার দৃশ্য যাচাই করেছে। শান্তি আলোচনা ভেঙে পড়ার পর থেকে চলমান এই টানা হামলা হরমুজ প্রণালির উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে, যা স্থায়ী যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টাকে জটিল করে তুলেছে।