ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-২ আসনে বিজয়ী বিএনপি প্রার্থী সরোয়ার আলমগীরের সংসদীয় দায়িত্ব পালনে কোনো বাধা নেই। বুধবার সকালে প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চ তার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে করা আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল নিশ্চিত করেছেন যে, এই আদেশের ফলে সরোয়ার আলমগীরের সংসদ অধিবেশনে যোগ দিতে আর কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা রইল না।
আদালতে সরোয়ার আলমগীরের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী মো. আহসানুল করিম এবং সুপ্রিম কোর্ট বারের সভাপতি ব্যারিস্টার এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকন। অন্যদিকে, আবেদনকারী প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াত প্রার্থী মুহাম্মদ নুরুল আমীনের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির ও আজিম উদ্দিন পাটোয়ারী। গত ২৭ ও ২৮ জুলাই উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত আজ বুধবার আদেশের জন্য দিন নির্ধারণ করেছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত হয় নির্বাচনের আগে, যখন রিটার্নিং কর্মকর্তা সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে ঋণ খেলাপির অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনে আপিল করেন নুরুল আমীন, যার প্রেক্ষিতে ১৮ জানুয়ারি কমিশন সরোয়ারের মনোনয়ন বাতিল করে। এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট করলে ২৭ জানুয়ারি হাইকোর্ট নির্বাচন কমিশনের আদেশ স্থগিত করে তাকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দেন। এরপর নুরুল আমীন আপিল বিভাগে লিভ টু আপিল করলে ৩ ফেব্রুয়ারি আদালত তা মঞ্জুর করেন। ওই সময় আদালত সরোয়ারকে নির্বাচনে অংশগ্রহণের সুযোগ দিলেও আপিল নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফলাফল প্রকাশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত নির্বাচনে সরোয়ার আলমগীর বেসরকারিভাবে বিজয়ী হলেও আদালতের নির্দেশনায় তখন ফলাফল ঘোষণা করা হয়নি। পরবর্তীতে ১৬ জুন আপিল বিভাগ হাইকোর্টকে দুই সপ্তাহের মধ্যে রুল নিষ্পত্তির নির্দেশ দেন এবং ৩ ফেব্রুয়ারির অন্তর্বর্তী আদেশ বহাল রাখেন। গত ৯ জুলাই হাইকোর্ট রুল যথাযথ ঘোষণা করে সরোয়ার আলমগীরের প্রার্থিতা বৈধ বলে রায় দেন। এরপরই গেজেট প্রকাশ ও তাকে শপথ পড়ানো হয়। তবে রায়ের লিখিত অনুলিপি প্রকাশের আগেই গেজেট প্রকাশ ও শপথের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে নুরুল আমীন ১৩ জুলাই আপিল বিভাগে আবেদন করেছিলেন।