মুখের ত্বকে হঠাৎ ব্রণের দেখা দিলে অনেকেই দ্রুত সমাধানের জন্য টুথপেস্ট ব্যবহারের পরামর্শ দেন। ইন্টারনেট বা বন্ধুমহলে প্রচলিত এই ধারণা অনুযায়ী, ব্রণের ওপর টুথপেস্ট লাগিয়ে রাখলে তা রাতারাতি গায়েব হয়ে যায়। তবে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কোনো জাদুকরী সমাধান নয়, বরং ত্বকের জন্য একটি ক্ষতিকর ভুল ধারণা।
টুথপেস্ট ব্যবহারের এই কৌশলটি কয়েক দশক ধরে টিকে আছে কারণ এটি ব্যবহারের পর প্রাথমিকভাবে কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। পুরনো টুথপেস্টের ফর্মুলেশনে ট্রাইক্লোসান নামক অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদানের পাশাপাশি বেকিং সোডা এবং হাইড্রোজেন পারক্সাইডের মতো ত্বক সাদা করার উপাদান থাকত। এগুলো দ্রুত ব্রণ শুকিয়ে ফেলায় সাময়িকভাবে লালচে ভাব বা ফোলাভাব কমে যায়, যা অনেকে নিরাময় বলে ভুল করেন। কিন্তু বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে এটি ত্বকের স্বাস্থ্যের জন্য মোটেও ভালো নয়।
টুথপেস্টে থাকা হাইড্রোজেন পারক্সাইড, বেকিং সোডা, অ্যালকোহল এবং মেনথল উপাদানগুলো ত্বককে দ্রুত শুষ্ক করে তোলে। ২০১৪ সালে ‘ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অফ কেমিক্যাল অ্যান্ড ফার্মাসিউটিক্যাল অ্যানালাইসিস’-এ প্রকাশিত একটি গবেষণায় পাঁচটি জনপ্রিয় টুথপেস্ট ব্র্যান্ড নিয়ে পরীক্ষা চালানো হয়। এতে দেখা যায়, টুথপেস্টের অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল উপাদান কিছু হোয়াইটহেড ব্রণ শুকাতে সাহায্য করলেও, এটি সব ধরনের ব্রণের জন্য কার্যকর নয়। বরং এতে থাকা কঠোর ব্লিচিং উপাদান ত্বকে জ্বালাপোড়া, চুলকানি ও অস্বস্তির সৃষ্টি করতে পারে।
চর্মরোগ চিকিৎসকদের মতে, টুথপেস্ট তৈরি করা হয়েছে দাঁতের এনামেল পরিষ্কারের জন্য, সংবেদনশীল মুখের ত্বকের জন্য নয়। এর ব্যবহারে বেশ কিছু ঝুঁকি রয়েছে। যেমন, এটি ত্বকের স্বাভাবিক আর্দ্রতা কেড়ে নিয়ে ত্বককে অতিরিক্ত শুষ্ক করে ফেলে। এর ফলে শরীর থেকে আরও বেশি তেল বা সিবাম নিঃসৃত হয়, যা পরবর্তীতে আরও বেশি ব্রণ তৈরির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এছাড়া টুথপেস্টের কড়া উপাদান ত্বক পুড়িয়ে দিতে পারে, যার ফলে জ্বালাপোড়া ও লালচে ভাব দেখা দেয়। এমনকি এর নিয়মিত ব্যবহারে ব্রণের জায়গায় স্থায়ী কালচে দাগ বা পোস্ট-ইনফ্ল্যামেটরি হাইপারপিগমেন্টেশন হওয়ার ঝুঁকি থাকে। তাই ব্রণ নিরাময়ে টুথপেস্টকে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বিবেচনা করা উচিত নয়।