মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা ‘নিট’ (NEET)-এর প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগকে কেন্দ্র করে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে টানা বিক্ষোভ চলছে। এই আন্দোলন ঘিরে শনিবার (২৫ জুলাই) কেন্দ্রীয় সরকার ও আন্দোলনরত ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-র নেতাদের মধ্যে তৃতীয় দফার বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। এছাড়া যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সংসদ মার্গজুড়ে অতিরিক্ত ব্যারিকেড স্থাপন করা হয়েছে। একই সঙ্গে দিল্লির মেট্রো কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ প্রশাসন আশপাশের ১৮টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন সাময়িকভাবে বন্ধ করে দিয়েছে। শুক্রবার রাতভর যন্তর মন্তরে আন্দোলন শান্তিপূর্ণ থাকলেও সেখানে বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
আন্দোলনকারীরা কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে এখনো অনড় রয়েছেন। সিজেপির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকার শনিবার দুপুর পর্যন্ত সময় চেয়েছে।
অন্যদিকে, পরিবেশকর্মী ও আন্দোলনকারী সোনম ওয়াংচুক টানা ২৬ দিনের অনশন শেষে বৃহস্পতিবার (২৩ জুলাই) গভীর রাতে গুরুগ্রামের মেদান্ত হাসপাতালে তার অনশন ভঙ্গ করেছেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জেপি নাড্ডা, জিতেন্দ্র সিং এবং ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি অংমোর উপস্থিতিতে তিনি অনশন প্রত্যাহার করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় সোনম ওয়াংচুক জানিয়েছেন, সরকারের কাছ থেকে তিনটি লিখিত আশ্বাস পাওয়ার পর তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সরকারের দেওয়া আশ্বাসগুলোর মধ্যে রয়েছে—যন্তর মন্তর ও ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা না নেওয়া, প্রশ্নফাঁসের ঘটনায় আত্মহত্যা করা শিক্ষার্থীদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং আসন্ন সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নফাঁসের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা।