July 26, 2026, 10:14 am

সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক চালিকাশক্তি

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, July 25, 2026
  • 2 Time View

তৈরি পোশাক শিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই হতে পারে বাংলাদেশের নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনাময় খাত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার সকালে রাজধানীর নভোথিয়েটারে আয়োজিত ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির এই নতুন চালিকাশক্তিকে বাস্তবে রূপ দিতে সরকার ব্যবসা-বান্ধব পরিবেশ সৃষ্টিসহ সব ধরনের পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কাজ শুরু করেছে।

বর্তমান সরকার একটি স্বনির্ভর ও প্রযুক্তিনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে চায় উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চতুর্থ ও পঞ্চম শিল্প বিপ্লবের যুগে সেমিকন্ডাক্টর আধুনিক সভ্যতার ভিত্তি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবটিক্স, ডেটা সেন্টার, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, চিকিৎসা সরঞ্জাম, মোবাইল ফোন এবং স্যাটেলাইটের মতো প্রতিটি ক্ষেত্রে চিপ অপরিহার্য। ২০২৬ সালের মধ্যে বিশ্ববাজারে সেমিকন্ডাক্টরের বাজার ১ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলারের কাছাকাছি পৌঁছাবে। এই বিশাল বাজারে বাংলাদেশের জন্য অপার সম্ভাবনা রয়েছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে নির্ধারিত রপ্তানি আয়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব বলে তিনি দৃঢ় বিশ্বাস প্রকাশ করেন।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে জাতীয় অগ্রাধিকারভিত্তিক খাত হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। এটি কোনো একক মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়, বরং সরকার, বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, শিল্প মালিক, উদ্যোক্তা এবং প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের সম্মিলিত একটি জাতীয় মিশন। এই খাতের উন্নয়নে চলতি বাজেটে প্রয়োজনীয় কাঁচামালের ওপর সব ধরনের কর ও শুল্ক প্রত্যাহার করা হয়েছে। পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর ডিজাইন সার্ভিসের রপ্তানি আয়ের ওপর নগদ প্রণোদনা চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তরুণ উদ্যোক্তাদের উৎসাহিত করতে প্রথমবারের মতো ৫০০ কোটি টাকার ‘স্টার্টআপ অনুদান’ বরাদ্দ রাখা হয়েছে, যার বণ্টন শুরু হয়েছে।

বিনিয়োগকারীদের আশ্বস্ত করে সরকারপ্রধান জানান, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ টানতে বন্ডেড সুবিধা এবং বিশেষায়িত অবকাঠামো নিশ্চিত করা হচ্ছে। বিদ্যমান হাই-টেক পার্কগুলোর আধুনিকায়নের পাশাপাশি একটি নতুন বায়োটেক পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই সামিটের মাধ্যমে নতুন অংশীদারিত্ব, গবেষণা ও বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি হবে, যা প্রযুক্তি খাতকে এগিয়ে নেবে।

‘বৈশ্বিক অংশীদারত্বের মাধ্যমে বাংলাদেশের সেমিকন্ডাক্টর ভবিষ্যৎ নির্মাণ’ প্রতিপাদ্যে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী এই সামিটের আয়োজক সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশন (বিএসআইএ), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং সিলিকন রিভার বাংলাদেশ কর্মসূচি। অনুষ্ঠান শেষে প্রধানমন্ত্রী সামিটের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করেন এবং পরে বিইএআর ইনোভেশন এক্সপো ২০২৬-এ শিক্ষার্থী ও স্টার্টআপদের উদ্ভাবনী স্টলগুলো ঘুরে দেখেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category