July 27, 2026, 12:57 pm

হামলার গোয়েন্দা তথ্যে তুরস্ক থেকে দ্রুত উড়োজাহাজ পাল্টালেন ট্রাম্প

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, July 26, 2026
  • 9 Time View

চলতি মাসে তুরস্কে ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলন শেষে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার পথে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হঠাৎ তার উড়োজাহাজ পরিবর্তন করেন। নিউইয়র্ক টাইমসের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে, ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্ভাব্য হামলার নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতেই এই আকস্মিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। ন্যাটো সম্মেলন চলাকালেই মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো জানতে পারে যে, ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ট্রাম্প এবং তার ভ্রমণকারী উড়োজাহাজটিকে লক্ষ্য করে আকাশপথে হামলার পরিকল্পনা করছে। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত একাধিক মার্কিন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

ট্রাম্প তুরস্কের আঙ্কারায় কাতারের উপহার হিসেবে পাওয়া একটি বোয়িং ৭৪৭-৮ উড়োজাহাজে গিয়েছিলেন। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আগেই উল্লেখ করা হয়েছিল যে, ওই বিমানে পুরোনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’-এর মতো ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরোধী উন্নত নিরাপত্তা ব্যবস্থা তখনও সংযোজন করা হয়নি। হুমকির তথ্য পাওয়ার পর সিক্রেট সার্ভিস দ্রুত ট্রাম্পকে উড়োজাহাজ পরিবর্তনের পরামর্শ দেয়। পরে তিনি তুরস্ক থেকে ফেরার জন্য পুরোনো ‘এয়ার ফোর্স ওয়ান’ ব্যবহার করেন। গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের মতে, হামলাকারীদের মূল লক্ষ্য ছিল ট্রাম্পকে বহনকারী উড়োজাহাজটিকে আকাশে ধ্বংস করা।

ন্যাটো সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প নিজেই স্বীকার করেন যে, তাকে হত্যার চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে এবং তিনি বিভিন্ন ‘হিটলিস্টে’ রয়েছেন। যদিও শুরুতে তিনি দাবি করেছিলেন, ব্রিটেনে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের নতুন উড়োজাহাজটি দেখানোর উদ্দেশ্যেই বিমান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং নিরাপত্তাজনিত কারণ অস্বীকার করেছিলেন। তবে নিউইয়র্ক টাইমসের তথ্য অনুযায়ী, মূলত সিক্রেট সার্ভিসের জোর সুপারিশেই এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়। এই হুমকির বিষয়টি প্রশাসনের খুব সীমিত পর্যায়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়েছিল এবং কংগ্রেসের শীর্ষ সদস্যদেরও বিস্তারিত জানানো হয়নি।

একই সময়ে ইসরায়েলও ট্রাম্পকে হত্যার সম্ভাব্য পরিকল্পনা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে কিছু গোয়েন্দা তথ্য দেয়। তবে মার্কিন কর্মকর্তাদের একাংশ সেই তথ্যের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভাষ্যমতে, তুরস্কে বিমান পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত যে গোয়েন্দা তথ্যের ওপর ভিত্তি করে নেওয়া হয়েছিল, তা ইসরায়েলের দেওয়া তথ্য থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।

নতুন উড়োজাহাজের নিরাপত্তা ঘাটতি নিয়ে বিতর্কের পর মার্কিন সরকার তথ্য ফাঁসের তদন্ত শুরু করেছিল। সম্প্রতি ট্রাম্পও স্বীকার করেছেন যে, নতুন বিমানে এখনো পুরোনো এয়ার ফোর্স ওয়ানের সব প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি সংযুক্ত হয়নি। হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট জানিয়েছেন, অতিরিক্ত নিরাপত্তা আধুনিকায়নের জন্য আগামী শরতে প্রায় এক মাস নতুন বিমানটি সেবার বাইরে থাকবে এবং এ সময় ট্রাম্প পুরোনো উড়োজাহাজটি ব্যবহার করবেন।

সিক্রেট সার্ভিসের পরিচালক শন কারান জানিয়েছেন, বর্তমান সময়ে তাদের সুরক্ষায় থাকা ব্যক্তিদের প্রতি হুমকির মাত্রা ইতিহাসের অন্যতম সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে। ২০২০ সালে ইরানের শীর্ষ সামরিক কমান্ডার কাসেম সোলাইমানি নিহত হওয়ার পর থেকেই ইরান-সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীগুলো ট্রাম্পকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করছে বলে গোয়েন্দাদের ধারণা। এর আগে ২০২৪ সালে পেনসিলভানিয়ার বাটলারে ট্রাম্পের ওপর হামলার ঘটনা নিরাপত্তা উদ্বেগ আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category