July 20, 2026, 3:36 am

টানা বৃষ্টি ও জলাবদ্ধতায় হাতিয়ায় ২৫ হাজার হেক্টর ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, July 19, 2026
  • 2 Time View

নোয়াখালীর হাতিয়ায় টানা কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ এবং জোয়ারের ফলে সৃষ্ট দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতায় প্রায় ২৫ হাজার হেক্টর ফসলি জমি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আউস ধান, আমনের বীজতলা, মৌসুমি সবজি, ফল, মরিচ এবং পানের বরজ ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কৃষি বিভাগের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এই ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ ৩০ কোটি টাকারও বেশি হতে পারে। এই বিপর্যয়ের ফলে উপজেলার প্রায় ৮০ হাজার কৃষক বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটের মুখে পড়েছেন।

উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্যমতে, ক্ষতিগ্রস্ত ফসলের মধ্যে ২১ হাজার ৫২০ হেক্টর আউস ধান, ১ হাজার ৯২০ হেক্টর আমনের বীজতলা, ৯৫০ হেক্টর মৌসুমি শাকসবজি, ৫৮ হেক্টর ফলের বাগান, ৪ হেক্টর মরিচ এবং ১০ হেক্টর পানের বরজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার কৃষকদের অবস্থা প্রায় একই রকম। বিশেষ করে সবজি উৎপাদনের জন্য পরিচিত চরকিং ও চরঈশ্বর ইউনিয়নের অধিকাংশ সবজিখেত পানিতে তলিয়ে গেছে।

চরকিং ইউনিয়নের চরকৈলাশ গ্রামের কৃষক কামাল উদ্দিন জানান, ১০ দিন আগে তিনি ৩০ শতাংশ জমিতে ৬০ কেজি আমনের বীজ বপন করেছিলেন। টানা বৃষ্টিতে পুরো বীজতলা তলিয়ে যাওয়ায় চারদিকে উঁচু আড়ি বেঁধে পানি নিষ্কাশনের চেষ্টা করেও তিনি ফসল রক্ষা করতে পারেননি। পানি নেমে যাওয়ার পর চারাগুলো নুয়ে পড়ছে, ফলে তাকে এখন নতুন করে বীজ বপনের কথা ভাবতে হচ্ছে, যার জন্য প্রয়োজন অতিরিক্ত অর্থের।

একই দুর্দশার কথা জানিয়েছেন চরঈশ্বর ইউনিয়নের পূর্ব গামছাখালী গ্রামের কৃষক হকসাব। তিনি এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় দুই লাখ টাকা ব্যয়ে এক একর জমিতে ঝিঙা চাষ করেছিলেন। বৃষ্টির কারণে গাছের গোড়া পচে যাওয়ায় এখন জমি থেকে গাছ তুলে ফেলতে হচ্ছে। তিনি জানান, এখনো কোনো ফসল বিক্রি করতে পারেননি, অথচ পানি নিষ্কাশন ও শ্রমিকের পেছনে বাড়তি খরচ হয়েছে। সরকারি সহায়তা না পেলে তার পক্ষে চাষাবাদ চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল বাছেদ সবুজ জানান, প্রতিটি ইউনিয়নে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ দিচ্ছেন। টানা বৃষ্টিতে হাতিয়ার কৃষি খাতে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ইউনিয়নভিত্তিক ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত প্রতিবেদন জেলা কৃষি অফিসে পাঠানো হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য দ্রুত সরকারি বরাদ্দ পাওয়া যাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category