July 22, 2026, 2:21 pm

অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল শুরু, থাকছে বিশেষ প্রণোদনার সুযোগ

Reporter Name
  • Update Time : Wednesday, July 22, 2026
  • 1 Time View

ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য ২০২৬-২০২৭ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন অনলাইনে দাখিলের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করেছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। করসেবা সহজ, স্বচ্ছ ও দুর্নীতিমুক্ত করার লক্ষ্যে এনবিআর এই ডিজিটাল ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করেছে। ২০২১ সালে অনলাইন পদ্ধতি চালুর পর থেকে এটি করদাতাদের মাঝে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে এবং বিগত ২০২৫-২০২৬ করবর্ষে প্রায় ৪৭ লাখ করদাতা ই-রিটার্ন সিস্টেম ব্যবহার করেছেন।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, স্বাভাবিক ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের জন্য অনলাইনে রিটার্ন দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এখন থেকে আর সনাতন বা ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে কাগজপত্রে রিটার্ন জমার সুযোগ থাকবে না। তবে বিশেষ পরিস্থিতির বিবেচনায় প্রবীণ করদাতা (৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব), শারীরিকভাবে অসমর্থ ব্যক্তি, প্রবাসী বাংলাদেশি, মৃত করদাতার আইনি প্রতিনিধি এবং বাংলাদেশে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের ক্ষেত্রে ম্যানুয়াল রিটার্ন দাখিলের ছাড় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বায়োমেট্রিক বা কারিগরি জটিলতায় যারা অনলাইনে নিবন্ধনে ব্যর্থ হবেন, তারা সংশ্লিষ্ট কর কমিশনারের লিখিত অনুমতি সাপেক্ষে ম্যানুয়াল রিটার্ন জমা দিতে পারবেন।

অনলাইন রিটার্ন ব্যবস্থার মাধ্যমে করদাতারা ঘরে বসেই ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড এবং বিকাশ, রকেট বা নগদের মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে কর পরিশোধ করতে পারছেন। রিটার্ন দাখিলের পরপরই সিস্টেম থেকে অটোমেটেড উপায়ে তাৎক্ষণিক প্রাপ্তিস্বীকারপত্র ও আয়কর সনদ পাওয়া যাচ্ছে। কোনো কারিগরি সমস্যায় সহায়তার জন্য এনবিআর ০৯৬৪৩৭১৭১৭১ কল সেন্টার চালু রেখেছে।

চলতি করবর্ষে করদাতাদের উৎসাহিত করতে সরকার এক বিশেষ প্রণোদনা ঘোষণা করেছে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাগণ বছরের শুরু অর্থাৎ জুলাই হতে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে অনলাইন রিটার্ন দাখিল করলে প্রদেয় নিট করের ওপর ৫ শতাংশ (সর্বোচ্চ ২৫,০০০ টাকা পর্যন্ত) বিশেষ প্রণোদনা বা ছাড় প্রাপ্ত হবেন। তবে সেপ্টেম্বর মাসের পর এই সুবিধা কার্যকর হবে না এবং ডিসেম্বর মাসের পর রিটার্ন জমা দিলে আইনি ধারা অনুযায়ী বিলম্ব কর প্রযোজ্য হবে।

এ বিষয়ে ঢাকা ট্যাক্সসেস বার অ্যাসোসিয়েশনের অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ ফারুক হোসেন সার্ভার সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট এস. এম. রেজাউল করিম এই ডিজিটাল উদ্যোগকে দুর্নীতি ও হয়রানি কমানোর ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন। এছাড়া বারিস্টার আহমেদ তানভীর ব্যাংক ও এনআইডি ডাটাবেজের সাথে এনবিআরের অটোমেটেড সিঙ্ক নিশ্চিত করার পরামর্শ দিয়েছেন।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category