নৈতিক স্খলনের অভিযোগে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামকে দল থেকে বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। এই বহিষ্কারের ঘোষণার পর থেকেই তার সংসদ সদস্য পদ থাকবে কি না, তা নিয়ে আইনি ও সাংবিধানিক অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। বিষয়টি সুরাহা করতে জামায়াত দ্রুতই নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) অবহিত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো রাজনৈতিক দলের মনোনয়নে নির্বাচিত সংসদ সদস্য যদি দল থেকে পদত্যাগ করেন কিংবা সংসদে দলের বিপক্ষে ভোট দেন, তবে তার আসন শূন্য হয়ে যায়। তবে এই অনুচ্ছেদে সরাসরি ‘দল থেকে বহিষ্কার’ হওয়ার কথা উল্লেখ নেই। এ কারণে অনেকেই মনে করছেন, কেবল বহিষ্কারের ভিত্তিতে এমপি পদ হারানো নিশ্চিত নয়। বিষয়টি মূলত সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের ব্যাখ্যা এবং নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদে স্পষ্ট বলা আছে, কোনো সংসদ সদস্যের আসন শূন্য হওয়া নিয়ে বিতর্ক দেখা দিলে তা নিষ্পত্তির জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে এবং কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে। সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী স্পিকারের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত বিষয় ইসিতে পাঠানোর বিধান রয়েছে।
এ বিষয়ে সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, নৈতিক স্খলনের কারণে দল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ায় গাজী নজরুল সংসদ সদস্য পদে থাকার আইনি অধিকার হারাবেন। তিনি ১৯৯৬ সালের বিএনপি দলীয় এমপি মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের উদাহরণ টেনে বলেন, ফ্লোর ক্রসিংয়ের দায়ে বহিষ্কৃত আখতারুজ্জামানকে শেষ পর্যন্ত সদস্যপদ হারাতে হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনিরও একই মত পোষণ করে জানিয়েছেন যে, নৈতিক স্খলনের দায়ে বহিষ্কৃত হওয়ায় গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদ থাকা উচিত নয়।
তবে ভিন্নমত পোষণ করেছেন অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান। তিনি বলেন, সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদে বহিষ্কারের বিষয়টি সরাসরি উল্লেখ নেই। তাই শুধুমাত্র বহিষ্কারের কারণে সদস্যপদ স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হওয়ার কোনো আইনগত ভিত্তি নেই। তিনি আরও যোগ করেন, নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত নয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি প্রয়োজনে হাইকোর্ট বা আপিল বিভাগে রিট করার সুযোগ রাখেন।
প্রসঙ্গত, গত ২২ জুলাই বুধবার বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের জরুরি বৈঠকে গাজী নজরুল ইসলামকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলের আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে সাংগঠনিক তদন্তে তার নৈতিক স্খলন প্রমাণিত হওয়ায় গঠনতন্ত্রের ৬২নং ধারা অনুযায়ী এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।