স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে বেশ কিছু নতুন বিধিনিষেধ ও অযোগ্যতার শর্ত আরোপের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কমিশন সভায় এই নীতিগত সিদ্ধান্তগুলো গৃহীত হয়। সভা শেষে ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান।
নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ঋণখেলাপিদের পাশাপাশি কোনো ঋণের গ্যারান্টার হয়ে যদি কেউ খেলাপি হন, তবে তিনিও নির্বাচনে অযোগ্য বলে বিবেচিত হবেন। এছাড়া বিদ্যুৎ, ওয়াসা ও ভূমি করসহ বিভিন্ন সরকারি সেবার বিল যারা পরিশোধ করেননি, তারাও প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য বলে গণ্য হবেন। কোনো প্রতিষ্ঠানের কর্ণধার বা প্রধানের প্রতিষ্ঠানের নামে বকেয়া থাকলেও তা অযোগ্যতার কারণ হিসেবে বিবেচিত হবে।
কমিশন সভায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক, লাভজনক পদে থাকা ব্যক্তি এবং দ্বৈত নাগরিকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার সুযোগ না রাখার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইসি সচিব জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সাথে সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন, উপজেলা, ইউনিয়ন, পৌরসভা এবং জেলা পরিষদ—এই পাঁচ স্তরের আইনগুলো পর্যালোচনা করে কিছু ক্ষেত্রে সংস্কারের প্রস্তাব করা হয়েছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা সব স্থানীয় সরকার আইনে সমানভাবে অন্তর্ভুক্ত না থাকায়, সব আইনেই তাদের ভূমিকা স্পষ্টভাবে যুক্ত করার প্রস্তাবে কমিশন একমত হয়েছে। এ বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে সচিব জানান, সব আইন সংশোধনের মাধ্যমেই সশস্ত্র বাহিনীকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।
নির্বাচন কমিশন এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগের কাছে আইন সংশোধনের সুপারিশ পাঠাবে। স্থানীয় সরকার বিভাগ উপযুক্ত মনে করলে সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন আচরণ বিধিমালাও সংশোধন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
জাতীয় পরিচয়পত্র ও ভোটার তালিকা প্রসঙ্গে সচিব জানান, বর্তমানে ১৬ বছর ও তদুর্ধ্ব বয়সীদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ভোটার তালিকাভুক্তির বয়সসীমা কোন পর্যায় পর্যন্ত নামানো যায় এবং ডাটা কালেকশনের ক্ষেত্রে এসএসসি নাকি অষ্টম শ্রেণি—কোনটি মানদণ্ড হবে, তা নিয়ে পর্যালোচনা করে পরবর্তীতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এর আগে বেলা ১১টা থেকে বিকেল পৌনে ৬টা পর্যন্ত প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে কমিশন সভা অনুষ্ঠিত হয়।
যখন একজন ১৮ বছরে পৌঁছান, তখন স্বয়ংক্রিয়ভাবে তিনি ভোটার তালিকাভুক্ত হয়ে যান।’ইসি সচিব বলেন, ‘এই ডাটা কালেকশনটা কোন লেভেল পর্যন্ত নামানো যায়, সেটা নিয়ে আরও কিছু পর্যালোচনার পরে একটা সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।