সুনামগঞ্জের রামসাইট খ্যাত টাঙ্গুয়ার হাওরের প্রতিবেশগত ভারসাম্য, জীববৈচিত্র্য এবং পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে জেলা প্রশাসন। শনিবার সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের ব্যবসা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ শাখা থেকে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিনহাজুর রহমান স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে ১১ দফা জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়েছে। রোববার রাত ৮টায় জেলা প্রশাসনের ফেসবুক পেজে এই বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা প্রশাসক।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ‘টাঙ্গুয়ার ও হাকালুকি হাওর সুরক্ষা আদেশ, ২০২৫’-এর আলোকে এই নির্দেশনাগুলো অবিলম্বে কার্যকর হবে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত টাঙ্গুয়ার হাওরের ইকোলজিক্যালি ক্রিটিক্যাল এরিয়া (ইসিএ) সীমানার ভেতর সব ধরনের হাউসবোট ও পর্যটকবাহী নৌযানের প্রবেশ ও চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। হাওরে চলাচলকারী সকল নৌযানের মালিক ও পরিচালনাকারীদের আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে নির্ধারিত ফরমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে নিবন্ধন না করলে বা অনুমতি না থাকলে কোনো নৌযান পরিচালনা করা যাবে না। এ বিষয়ে যোগাযোগের জন্য সুনামগঞ্জ জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি)-এর মোবাইল নম্বর ০১৭৩০-৩৩১১০৬ ব্যবহার করা যাবে।
পরিবেশ রক্ষায় হাউসবোটের জন্য বেশ কিছু কঠোর শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নৌযানে উচ্চস্বরে গান-বাজনা, মাইক ব্যবহার বা পার্টির আয়োজন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একই সঙ্গে একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক বহন নিষিদ্ধ এবং নৌযানে পানি বিশুদ্ধকারী ফিল্টার রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। নৌযানগুলোতে অবশ্যই সেপটিক ট্যাংক ও অন্তত দুটি ডাস্টবিন রাখতে হবে এবং হাওর বা জলাশয়ে কোনো ধরনের বর্জ্য ফেলা যাবে না।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রতিটি হাউসবোটের দৈর্ঘ্য সর্বোচ্চ ১০০ ফুটের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। নৌযানগুলোতে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট, লাইফবয় রিং, অগ্নি-নির্বাপক যন্ত্র রাখা এবং গ্যাস সিলিন্ডারের নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। পর্যটকদের জন্য আচরণবিধি দৃশ্যমান স্থানে প্রদর্শন করতে হবে এবং যাত্রা শুরুর আগেই তা পর্যটকদের অবহিত করতে হবে। এছাড়া জরুরি প্রয়োজনে জেলা বা উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও হাসপাতালের নম্বর দৃশ্যমান স্থানে ঝুলিয়ে রাখতে হবে।
দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় পর্যটক পরিবহন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে। আকস্মিক ঝড়, প্রবল বৃষ্টিপাত বা বজ্রপাতের আশঙ্কাকালীন সময়ে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশেষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। নির্দেশনা লঙ্ঘন করলে আইনানুগ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও গণবিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।