August 2, 2026, 8:44 pm

ওবায়দুল কাদেরসহ ৭ আসামির বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ সম্পন্ন

Reporter Name
  • Update Time : Sunday, August 2, 2026
  • 4 Time View

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাত প্রভাবশালী নেতার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণের কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বিচারিক প্যানেল এই আদেশ দেন। প্যানেলের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

রবিবার (২ আগস্ট) মামলার ২৭তম সাক্ষী ও তদন্ত কর্মকর্তা আহমেদ নাসের উদ্দিন মোহাম্মদকে জেরা করেন রাষ্ট্রনিযুক্ত আসামিপক্ষের আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান। জেরা সম্পন্ন হওয়ার পর আদালত আগামী ৪ আগস্ট মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্য দিন ধার্য করেন। রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদসহ অন্য আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে ২৬ জুলাই সাংবাদিক আশরাফ কায়সার ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন। তিনি তার জবানবন্দিতে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলের বিভিন্ন প্রেক্ষাপট এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ তুলে ধরেন। মামলার প্রথম দফার সাক্ষ্যগ্রহণ গত ২৭ এপ্রিল শেষ হয়েছিল, তবে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সাংবাদিক আশরাফ কায়সারের অতিরিক্ত জবানবন্দি ও তদন্ত কর্মকর্তার পুনরায় সাক্ষ্য গ্রহণের মাধ্যমে কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়।

মামলায় অভিযুক্ত অন্য ছয় আসামি হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত সাতজনই বর্তমানে পলাতক রয়েছেন।

চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-২ সাত আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার প্রক্রিয়া শুরুর নির্দেশ দেন। এর আগে গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আদালত আমলে নিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে উসকানিমূলক বক্তব্য, প্ররোচনা এবং নেতাকর্মীদের রাজপথে নামিয়ে কঠোর দমন-পীড়ন ও সহিংসতার পরিকল্পনা করেছিলেন। এছাড়া গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ এবং সশস্ত্র হামলাসহ তাদের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ফলে দেশজুড়ে ব্যাপক হত্যা ও সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category