যুক্তরাজ্যের ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনের এক সাম্প্রতিক গবেষণায় তরুণ নারীদের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। গবেষকদের মতে, কোভিড-১৯ মহামারির পরবর্তী সময়ে তরুণ প্রজন্মের মধ্যে স্থূলতা বৃদ্ধির প্রবণতা এই রোগের বিস্তারে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। ইংল্যান্ডের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা বা এনএইচএস-এর তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে, যেখানে বয়স্কদের ক্ষেত্রে এই রোগের হার হয় স্থিতিশীল রয়েছে, নয়তো ক্ষেত্রবিশেষে সামান্য কমেছে।
গবেষণার প্রধান ড. শিবানী মিশ্র জানিয়েছেন, তীব্র স্থূলতার কারণে টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হওয়ার গড় বয়স আগের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে এসেছে। একসময় রোগটি নির্দিষ্ট কিছু জাতিগত সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর মধ্যে বেশি দেখা গেলেও এখন শ্বেতাঙ্গ জনগোষ্ঠীর মধ্যেও এর প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন এক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এনএইচএস-এর ২০১৯ থেকে ২০২৫ সালের পরিসংখ্যান বলছে, মহামারির পর ইংল্যান্ডে ২০ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে স্থূলতার হার ১৬ শতাংশ এবং ৩০ থেকে ৩৯ বছর বয়সীদের মধ্যে প্রায় ২০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। তরুণদের মধ্যে ডায়াবেটিসের এই ক্রমবর্ধমান প্রবণতার পেছনে একেই অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন গবেষকরা।
বর্তমানে যুক্তরাজ্যে প্রায় ৬০ লাখ মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, যার ৯০ শতাংশই টাইপ-২ ডায়াবেটিসে ভুগছেন। বয়স্কদের রোগ হিসেবে পরিচিত হলেও এখন ৩০ বছরের কম বয়সী প্রায় ১২ হাজার মানুষ এ রোগে আক্রান্ত, যাদের একটি বড় অংশই তরুণী। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, টাইপ-২ ডায়াবেটিস কেবল রক্তে শর্করার মাত্রা বাড়ায় না, বরং এটি হৃদরোগ, স্ট্রোকসহ অন্যান্য গুরুতর স্বাস্থ্য জটিলতার ঝুঁকিও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়ে দেয়। দাতব্য সংস্থা ডায়াবেটিস ইউকে জানিয়েছে, কম বয়সে এই রোগে আক্রান্ত হলে তা শরীরের ওপর আরও আক্রমণাত্মক প্রভাব ফেলে, যার ফলে অঙ্গহানি ও অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি পায়। অতিরিক্ত ক্লান্তি, ঘন ঘন প্রস্রাব এবং অতিরিক্ত তৃষ্ণা টাইপ-২ ডায়াবেটিসের সাধারণ লক্ষণ হিসেবে পরিচিত। এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।