সরকার ও ব্যবসায়ীরা যদি কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেন, তবে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে দৃশ্যমান ও ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী। শনিবার (১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে আয়োজিত বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) এই সভার আয়োজন করেছিল।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশ ও মানুষের কল্যাণে কাজ করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। যদিও অর্থনীতির ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা বিদ্যমান, তবে সরকার ও ব্যবসায়ীরা সম্মিলিতভাবে কাজ করলে সেগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সরকার ও ব্যবসায়ী—উভয় পক্ষই অর্থনীতির বর্তমান চ্যালেঞ্জগুলো সম্পর্কে অবগত। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিক এবং এ বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনার ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে।
সরকারপ্রধান বলেন, বর্তমান সরকারের বয়স এখনো ছয় মাস পূর্ণ হয়নি। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সঙ্গে কয়েকবার বৈঠক হয়েছে। আগের বৈঠকগুলোতে ব্যবসায়ীদের উত্থাপিত অনেক সমস্যার সমাধান ইতিমধ্যে করা হয়েছে এবং আজকের আলোচনায় উঠে আসা নতুন বিষয়গুলো নিয়েও সরকার কাজ করবে। প্রধানমন্ত্রী জানান, আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আবারও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে সরকার আলোচনায় বসবে। তিনি মনে করেন, আলোচনার মাধ্যমেই কার্যকর সমাধান বের করা সম্ভব এবং নিয়মিত সংলাপের ফলে অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
বৈঠকে ব্যবসা সম্প্রসারণ, নতুন শিল্পায়ন এবং বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধির পরিবেশ নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। এ সময় ব্যবসায়ীরা সহজ শর্তে ঋণ, নীতিগত সহায়তা এবং ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। সভায় জানানো হয়, আগের বৈঠকে আলোচিত ২৮টি সমস্যার মধ্যে ২১টির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং বাকি সাতটি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ব্যবসায়ীরা ২০৩০ সালের মধ্যে রপ্তানি আয় ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার রূপরেখা তুলে ধরলে, রপ্তানি বৃদ্ধিতে কূটনৈতিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার আশ্বাস দেয় সরকার।
সভায় উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা।