দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। দুই দিনের ব্যবধানে ভরিতে আরও ২ হাজার ২১৬ টাকা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকালে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বাজুস জানিয়েছে, নতুন এই দাম আজ সকাল ১০টা থেকেই কার্যকর হয়েছে।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের বা পিওর গোল্ডের মূল্য বৃদ্ধির কারণে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে স্বর্ণের এই নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন এই দর অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) স্বর্ণের দাম এখন ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা।
অন্যান্য মানের স্বর্ণের দামও পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। এখন ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী ঘোষণা না আসা পর্যন্ত দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানে এই দাম কার্যকর থাকবে। তবে অলঙ্কারের ডিজাইন অনুযায়ী মজুরি আলাদাভাবে প্রযোজ্য হবে।
বাজুস আরও জানিয়েছে, স্বর্ণালঙ্কার ও রৌপলঙ্কারের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে ভ্যাট যুক্ত থাকায় গ্রাহকদের কাছ থেকে আলাদা করে ভ্যাট আদায় করা যাবে না। এছাড়া অলঙ্কার কেনা বা বিনিময়ের ক্ষেত্রে বাজুসের আগের নির্ধারিত নিয়ম বহাল থাকবে।
এর আগে গত ২৮ জুলাই সকালে স্বর্ণের দাম কমিয়ে সমন্বয় করা হয়েছিল। সেদিন ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা কমানোর ফলে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল। সেই সঙ্গে ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।
চলতি বছর এখন পর্যন্ত দেশে ৯৭ বার স্বর্ণের দাম সমন্বয় করা হয়েছে, যার মধ্যে ৪৭ বার দাম বাড়ানো হয়েছে এবং ৪৯ বার কমানো হয়েছে। এছাড়া একবার ভ্যাট সমন্বয় করা হয়েছে। অন্যদিকে, গত ২০২৫ সালে মোট ৯৩ বার দাম সমন্বয় করা হয়েছিল, যেখানে ৬৪ বার দাম বাড়ানো এবং ২৯ বার কমানোর ঘটনা ঘটেছিল। তবে স্বর্ণের দাম বাড়লেও দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। বর্তমানে ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপা ৪ হাজার ৬০৭ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।