ইরানে নতুন করে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা করছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বিষয়টি সম্পর্কে অবগত দুজন মার্কিন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তবে এই সম্ভাব্য হামলার পরিধি কতটুকু হবে কিংবা ঠিক কোন কোন স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে, সে বিষয়ে এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি অনুযায়ী এই সামরিক হামলার পরিকল্পনা যেকোনো সময় বাতিলও করা হতে পারে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত শুক্রবার (৩১ জুলাই) মন্ত্রিসভার বৈঠকে ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় আশানুরূপ ফলাফল না আসায় তিনি নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের ওপর খুবই কঠোর হামলা চালাব। একসময় তারা বলবে, আমরা আর সহ্য করতে পারছি না।’
মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড বা সেন্টকম যুদ্ধ পরিস্থিতি বিস্তৃত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন বিকল্প প্রস্তুত করে রেখেছে। এর মধ্যে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনাগুলোতে টানা দুই সপ্তাহ ধরে ব্যাপক বোমাবর্ষণের পরিকল্পনাও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া ইরানের জ্বালানি অবকাঠামোতে হামলার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে। তবে এ ধরনের পদক্ষেপে ট্রাম্প প্রশাসন বেশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কারণ, জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালানো হলে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা হামলা চালাতে পারে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি করতে পারে।
এর আগে চলতি সপ্তাহে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরাইল কাটজ জানিয়েছিলেন যে, ইরানের অর্থনীতির ওপর চাপ বাড়াতে তেল আবিব দেশটির জ্বালানি স্থাপনায় হামলা চালাতে চায়। তবে তিনি এও স্পষ্ট করেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এখনো এ ধরনের হামলার অনুমোদন দেয়নি। নতুন এই মার্কিন হামলায় ইসরাইল সরাসরি কোনো অংশ নেবে কি না, তার কোনো ইঙ্গিত এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
মার্কিন কর্মকর্তারা আরও জানিয়েছেন, তেহরানের দক্ষিণে অবস্থিত পিকঅ্যাক্স মাউন্টেনসহ ইরানের বিভিন্ন পারমাণবিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হামলার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে এবং গত কয়েক দিনে এই প্রস্তুতি আরও জোরদার করা হয়েছে। এদিকে সপ্তাহান্তে ট্রাম্পের নতুন হামলার নির্দেশের বিষয়ে জানতে চাইলে হোয়াইট হাউস জানায়, প্রেসিডেন্ট কোনো ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চলতে দেবেন না। হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলিন লেভিট এক বিবৃতিতে বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যে অর্থবহ আলোচনার কথা বলছেন, তাতে ইরান রাজি না হওয়া পর্যন্ত দেশটিকে এর মূল্য দিতে হবে।’