তরুণ উদ্ভাবকদের দেশের ভবিষ্যৎ হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তাদের গবেষণা, প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এবং স্টার্টআপ উদ্যোগে সরকার সবসময় পাশে থাকবে। রবিবার বিকেলে বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের আন্ডারওয়াটার রোবোটিক ড্রোন নির্মাণ প্রতিযোগিতা ‘মেট আরওভি ইন্টারন্যাশনাল আন্ডারওয়াটার রোবট কম্পিটিশন ২০২৬’-এ বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়া দলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর উপ প্রেস সচিব মো. সুজাউদ্দৌলা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বিজয়ী দলটি মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির (এমআইএসটি) শিক্ষার্থী। সাক্ষাৎকালে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের জন্য গৌরব বয়ে আনায় তাদের অভিনন্দন জানান এবং তাদের ভবিষ্যৎ গবেষণা ও প্রযুক্তি উন্নয়নের ক্ষেত্রে সর্বাত্মক সহযোগিতার আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্ভাবন দেশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতাকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে উদ্ভাবক, গবেষক ও প্রযুক্তি উদ্যোক্তাদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষার্থীরা তাদের তৈরি বিশ্বজয়ী আন্ডারওয়াটার রোবটটি প্রধানমন্ত্রীর সামনে প্রদর্শন করেন। প্রধানমন্ত্রী রোবটটির নকশা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা সম্পর্কে বিস্তারিত খোঁজখবর নেন এবং এর বাণিজ্যিকীকরণসহ ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তার আশ্বাস দেন। শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা শেষে প্রযুক্তি খাতেই কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করলে প্রধানমন্ত্রী জানান, তারা প্রযুক্তিনির্ভর স্টার্টআপ গড়ে তুলতে চাইলে সরকারের স্টার্টআপ কর্মসূচির মাধ্যমে সব ধরণের সহায়তা দেওয়া হবে।
দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করার ওপর গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, সরকার তৈরি পোশাক শিল্পের পাশাপাশি সেমিকন্ডাক্টর, ফার্মাসিউটিক্যালস, ফার্নিচার ও কসমেটিকসের মতো সম্ভাবনাময় খাতগুলোকে শক্তিশালী করতে কাজ করছে। বিশেষ করে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে অগ্রাধিকার দিয়ে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং বিদেশে কর্মরত বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের দেশে ফিরে এই খাতের বিকাশে অবদান রাখার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গত ২৩ থেকে ২৯ জুন কানাডার নিউফাউন্ডল্যান্ড অ্যান্ড ল্যাব্রাডরে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের ১৮টি দেশের ৮৮টি দল অংশ নেয়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, চীন ও সৌদি আরবসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষ সারির বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে পেছনে ফেলে এমআইএসটির ‘মিস্ট ম্যাভিরভ’ দল বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্র রানার্স-আপ এবং আয়োজক দেশ কানাডা তৃতীয় স্থান লাভ করে। সাক্ষাৎকালে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এ কে এম শামসুল ইসলাম, এমআইএসটির কমান্ড্যান্ট মেজর জেনারেল মো. হাকিমুজ্জামান, ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কে এম মোস্তাফিজুর রহমান এবং বিজয়ী দলের ১০ জন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন।