বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ২০২৪-পরবর্তী বাংলাদেশে মানুষ আর কোনো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কিংবা ফ্যাসিবাদের ছায়া দেখতে চায় না। জনগণের রক্ত ও আত্মত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই ফ্যাসিবাদের অবসান যে কোনো মূল্যে ধরে রাখতে হবে এবং এর পুনরাবৃত্তি কখনোই মেনে নেওয়া হবে না।
শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হবিগঞ্জের কিশোর আলিফ চৌধুরীকে দেখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের হামলায় আলিফ গুরুতর আহত হন এবং একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারান। ডা. শফিকুর রহমান এ সময় আলিফের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন, চিকিৎসকদের সঙ্গে চিকিৎসার অগ্রগতি নিয়ে আলোচনা করেন এবং তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দোয়া করেন।
হবিগঞ্জের এই হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, পরিবর্তিত বাংলাদেশের বাস্তবতায় এ ধরনের রাজনৈতিক সহিংসতা অত্যন্ত হতাশাজনক। জড়িত ব্যক্তিরা যে দলেরই হোক না কেন, তাদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। হামলার শিকার ব্যক্তিরা বিচার চাইতে গিয়ে মামলার ক্ষেত্রে যে প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছেন, তা অনাকাঙ্ক্ষিত উল্লেখ করে তিনি বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করা সরকারের দায়িত্ব। ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচারের জন্য সংগ্রাম করতে হলে মানুষের আইনের প্রতি আস্থা নষ্ট হয়।
সরকারের ভূমিকার সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। সরকার কথার বদলে কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে প্রমাণ করুক যে আইন সবার জন্য সমান। সাম্প্রতিক সময়ে সরকারের একজন মন্ত্রীর দুর্নীতি ও প্রশাসনিক পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, সরকারের ভেতর থেকেই যখন পরিবর্তনের অভাব নিয়ে প্রশ্ন ওঠে, তখন জনগণ অজুহাত নয়, দৃশ্যমান উদ্যোগ প্রত্যাশা করে।
হবিগঞ্জে ১৪৪ ধারা জারি এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিতে বাধা দেওয়ার ঘটনাকে উদ্বেগজনক উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন নাগরিকদের সাংবিধানিক অধিকার। আলিফ কাউকে আক্রমণ করতে যায়নি বরং সংঘাত এড়াতে গিয়েই হামলার শিকার হয়েছে। এমন হৃদয়বিদারক ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে জাতি এখন সরকারের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছে। এসময় তার সঙ্গে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদসহ অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর জাতীয় চক্ষু বিজ্ঞান ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ছাত্রদলের হামলায় গুরুতর আহত কিশোর আলিফ চৌধুরীকে দেখতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। হামলায় আলিফ একটি চোখের দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।