July 31, 2026, 9:43 pm

ব্যবসায়ীদের থেকে যেভাবে লাখ লাখ টাকা চাঁদা তুলতেন সন্ত্রাসী ডেভিড ইমন

Reporter Name
  • Update Time : Friday, July 31, 2026
  • 1 Time View

চট্টগ্রামের শীর্ষ সন্ত্রাসী মোবারক হোসেন ইমন ওরফে ডেভিড ইমন ব্যবসায়ী এবং প্রবাসীদের কাছ থেকে লাখ থেকে কোটি টাকা পর্যন্ত চাঁদা আদায়ের এক সুসংগঠিত নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছিলেন। পুলিশ ও ভুক্তভোগীদের তথ্য অনুযায়ী, ইমনের অনুসারীরা চাঁদাবাজির জন্য এলাকাভেদে পৃথক দল ব্যবহার করত। তথ্য সংগ্রহের জন্য একটি দল কাজ করত, আরেকটি দল নগদ টাকা সংগ্রহ করত এবং অন্য একটি দল হামলা, ভাঙচুর কিংবা গুলিবর্ষণের মতো অপরাধমূলক ঘটনায় জড়াত।

চাঁদা আদায়ের প্রক্রিয়ায় প্রথমে ইমনের লোকজন নির্দিষ্ট ব্যবসায়ীর আয়ের উৎস, সম্পদের পরিমাণ এবং পরিবারের সদস্যদের জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করত। এরপর বিদেশি হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে ফোন করে চাঁদা দাবি করা হতো। চাহিদামতো টাকা না দিলে পরিবারের সদস্যদের ক্ষতি করার হুমকি দেওয়া হতো। গত সোমবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ডের বড় দিঘিরপাড় এলাকার ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিনের নির্মাণাধীন ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালানো হয়। এর আগে ১৩ জুলাই বাকলিয়া এক্সেস রোডের একটি ইন্টারনেট সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানেও হামলার অভিযোগ রয়েছে ইমনের অনুসারীদের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ীদের ভাষ্যমতে, ইমন গ্রেপ্তার হওয়ার আগে পর্যন্ত ভয়ে অনেকেই মুখ খুলতে পারেননি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দক্ষিণ পাহাড়তলীর এক ব্যবসায়ী জানান, জুন মাসের শেষের দিকে বড় সাজ্জাদের সহযোগী পরিচয় দিয়ে ইমন তাকে ফোন করে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী সাজ্জাদ হোসেন ওরফে ছোট সাজ্জাদ গত বছরের ১৫ মার্চ ঢাকা থেকে গ্রেপ্তারের পর সাজ্জাদের অন্যতম সহযোগী হয়ে ওঠেন ইমন। ২০২৫ সালের ৩০ মার্চ বাকলিয়া এলাকার জোড়া খুন, একই বছরের (২০২৫) ২৩ মে রাতে নগরের পতেঙ্গা সমুদ্রসৈকত এলাকায় সন্ত্রাসী ঢাকাইয়া আকবর হত্যাসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনায় আলোচিত হন মোবারক হোসেন ইমন। পরে অনুনয়-বিনয় করে পাঁচ লাখ টাকায় রফা হয়। ইমনের নির্দেশে অটোরিকশায় আসা দুই যুবক ওই ব্যবসায়ীর বাসার সামনে থেকে নগদ টাকা সংগ্রহ করে নিয়ে যায়।

পুলিশ জানায়, সংগৃহীত চাঁদার টাকা নগরের জিইসি মোড় এলাকার একটি রেস্টুরেন্টে ইউসুফ নামের এক ব্যক্তির কাছে জমা দেওয়া হতো। ইউসুফ সেই টাকা ইমনের নির্দেশমতো হুন্ডি কিংবা বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে তার কাছে পাঠিয়ে দিতেন। ইউসুফকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার (হাটহাজারী সার্কেল) কাজী মোহাম্মদ তারেক আজিজ জানান, ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকতে ইমন কৌশল হিসেবে নগদে চাঁদা নিতেন এবং টাকা সংগ্রহকারীরা সাধারণত ওই এলাকার বাসিন্দা হতেন না।

ফটিকছড়ির কাঞ্চননগরের বাসিন্দা ইমন ছোটবেলা থেকে ক্রিকেটের প্রতি আগ্রহী ছিলেন এবং চট্টগ্রাম ব্রাদার্স একাডেমিতে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে তিনি সন্ত্রাসী সাজ্জাদ আলী ওরফে বড় সাজ্জাদের দলে যোগ দিয়ে অপরাধ কর্মকাণ্ডে বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। তার বিরুদ্ধে অন্তত ১৫টি মামলা রয়েছে। গত বুধবার যশোর থেকে ভারতে পালানোর সময় তিন সহযোগীসহ গ্রেপ্তার হন ইমন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানিয়েছেন, বড়লোক হওয়ার আকাঙ্ক্ষা থেকেই তিনি সন্ত্রাসের পথ বেছে নিয়েছিলেন। পুলিশ ইতিমধ্যে তার কাছ থেকে অস্ত্র উদ্ধার করেছে এবং রিমান্ডে তাকে আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে জানিয়েছেন জেলা পুলিশ সুপার মাসুদ আলম।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category