রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিক্ষার্থীকে মারধর, পাল্টাপাল্টি হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনার প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তরের প্রশাসক অধ্যাপক এস এম কামরুজ্জামান স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গঠিত কমিটিকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে ঘটনার পেছনের কারণ উদ্ঘাটন, দায়ী ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশসহ প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণরসায়ন ও অণুপ্রাণবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক মো. রেজাউল করিমকে এই কমিটির আহ্বায়ক করা হয়েছে। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন ফার্মেসি বিভাগের অধ্যাপক মো. গোলাম ছাদিক, ম্যাটেরিয়ালস সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. আসাদুল হক, দর্শন বিভাগের অধ্যাপক মো. আরিফুল ইসলাম এবং ফলিত রসায়ন ও রসায়ন প্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক এ নাঈম ফারুকী।
ঘটনার সূত্রপাত সম্পর্কে জানা যায়, গত ২৭ জুলাই এক নারী শিক্ষার্থীকে প্রেমের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় ছুরি দেখিয়ে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও মানসিক হয়রানির অভিযোগ ওঠে ছাত্রদল কর্মী মহসিন আলমের বিরুদ্ধে। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযুক্তকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য প্রক্টরিয়াল দপ্তরে ডাকা হয়। অভিযোগ রয়েছে যে, প্রক্টরিয়াল দপ্তরে আনাস নামের এক শিক্ষার্থী—যিনি আগে ছাত্রলীগের কর্মী ছিলেন এবং বর্তমানে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত—অভিযুক্তের পক্ষ নিয়ে অশোভন আচরণ করেন। এ সময় রাকসুর জিএস সালাহউদ্দিন আম্মারের সঙ্গে তার হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।
একই দিন বিকেলে আনাসের সহযোগীরা রাকসু ভবনে গিয়ে রাকসু জিএস সালাহউদ্দিন আম্মার ও রাকসুর প্রতিনিধি নাজমুস সাকিবকে মারধর করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। এর প্রতিক্রিয়ায় আম্মার ও শিবিরের নেতা-কর্মীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি এলাকায় গিয়ে হামলার সঙ্গে জড়িতদের আটক করে মারধর করেন এবং পরে তাদের প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করেন। পরবর্তীতে রাকসু প্রতিনিধি, ছাত্রশিবির, ছাত্রদল এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের মধ্যকার বৈঠকে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়। সেই দাবির প্রেক্ষিতেই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এই তদন্ত কমিটি গঠন করেছে। তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।