July 29, 2026, 6:12 pm

শিল্প কারখানায় নতুন গ্যাস সংযোগ আপাতত বন্ধ রাখছে সরকার

Reporter Name
  • Update Time : Tuesday, July 28, 2026
  • 4 Time View

দেশে গ্যাসের উৎপাদন প্রতি বছর দৈনিক ১৫ কোটি ঘনফুটের বেশি হারে কমছে। ঘাটতি মেটাতে এলএনজি আমদানি করা হলেও তা পর্যাপ্ত নয়, ফলে আমদানিতে বিঘ্ন ঘটলেই তীব্র গ্যাস সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ও শিল্প খাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় সরকার আপাতত শিল্পে নতুন কোনো গ্যাস সংযোগ না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ১৪ জুলাই বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) চেয়ারম্যানকে পাঠানো এক চিঠিতে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, দেশীয় গ্যাসক্ষেত্র থেকে উৎপাদন হ্রাসের পাশাপাশি কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত দুটি এফএসআরইউ টার্মিনালের আমদানিকৃত এলএনজি সরবরাহে সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এ দুটি টার্মিনাল মিলে গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা ১১০ কোটি ঘনফুট হলেও সর্বোচ্চ সরবরাহ করা হয় ১০৫ কোটি ঘনফুট। বর্তমানে একটি টার্মিনাল বন্ধ থাকায় সরবরাহ সক্ষমতা কমে ৫০ কোটি ঘনফুটের নিচে নেমে এসেছে, যা গত এক সপ্তাহ ধরে সারা দেশে গ্যাস সংকটকে আরও ঘনীভূত করেছে।

শিল্পে গ্যাস সংযোগ বন্ধের ঘটনা নতুন নয়। এর আগে ২০০৯ ও ২০১০ সালেও বিভিন্ন খাতে নতুন সংযোগ স্থগিত রাখা হয়েছিল। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে উচ্চপর্যায়ের কমিটির মাধ্যমে সংযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও তা নিয়ে নানা বিতর্ক ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও একটি কমিটির মাধ্যমে তিতাস গ্যাসের ২৫টি সংযোগ অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল, তবে সেই কমিটিও পরে বাতিল করা হয়। গত ১৭ মে জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনার পরও নতুন সংযোগের বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হয়নি।

জ্বালানি বিভাগের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক দশকের ব্যবধানে দেশে দৈনিক গ্যাস উৎপাদন ১০০ কোটি ঘনফুটের বেশি কমেছে। ২০১৭ সালে দিনে ২৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস উৎপাদন করা হয়েছে। ২০১৮ সাল থেকে শুরু হয় এলএনজি আমদানি। বর্তমানে দেশীয় উৎপাদন ও এলএনজি আমদানি মিলিয়ে দিনে সর্বোচ্চ ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানিয়েছেন, এই সংযোগ স্থগিতাদেশ সাময়িক। সরকার ভোলার গ্যাস ঢাকায় আনা এবং মালয়েশিয়া থেকে আইএসও ট্যাংকের মাধ্যমে এলএনজি আমদানির মতো একাধিক বিকল্প নিয়ে কাজ করছে। সরবরাহ ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার পর অগ্রাধিকার তালিকা অনুযায়ী সংযোগ দেওয়া হবে এবং ডিমান্ড নোটের টাকা জমা দেওয়া আবেদনকারীরা অগ্রাধিকার পাবেন।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, গ্যাসের সরবরাহ বাড়াতে অন্তত এক বছর সময় লাগতে পারে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার বা অবকাঠামো নির্মাণ দীর্ঘমেয়াদী প্রক্রিয়া। বর্তমানে মোট গ্যাসের ৪১ শতাংশ বিদ্যুৎ খাতে এবং ৩৬ শতাংশ শিল্প খাতে ব্যবহৃত হয়। বিশেষজ্ঞ ম তামিম বলেন, সরবরাহ বৃদ্ধি ছাড়া সংযোগ দেওয়া সম্ভব নয়, তবে বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ রক্ষায় দ্রুততম সময়ে সরবরাহ বাড়াতে আমদানির অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। গ্যাস ট্রান্সমিশন কোম্পানি জিটিসিএল বলছে, মহেশখালী থেকে এলএনজি আনার জন্য দুটি সমান্তরাল পাইপলাইন আছে যা দিয়ে ১৭০ কোটি ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা যাবে, কিন্তু আনোয়ারা স্টেশন থেকে পরবর্তী পাইপলাইন সরু হওয়ায় সেখানে ১১০ কোটি ঘনফুটের বেশি সরবরাহ করা সম্ভব নয়। সরকার বর্তমানে ১০০টি কূপ খনন ও সমুদ্রে অনুসন্ধানের উদ্যোগ নিয়েছে, তবে বর্তমান সংকট নিরসনে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার কোনো বিকল্প নেই।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category