তৈরি পোশাক শিল্পের পর সেমিকন্ডাক্টর শিল্পই বাংলাদেশের জন্য পরবর্তী সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক গন্তব্য হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত নভো থিয়েটারে শনিবার (২৫ জুলাই) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইএআর সামিট-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, এই সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি, কর সুবিধা প্রদান, বন্ডেড সুবিধা নিশ্চিত করা এবং বিশেষায়িত অবকাঠামো নির্মাণের লক্ষ্যে সরকার সর্বোচ্চ কাজ করছে। এছাড়া বিদ্যমান হাই-টেক পার্কগুলোর আধুনিকায়নের পাশাপাশি একটি নতুন বায়োটেক পার্ক নির্মাণের পরিকল্পনাও বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।
দেশের উদ্যোক্তারা সম্প্রতি মালয়েশিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রে যে রোড শোর আয়োজন করেছেন, সেটির প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে দেশের সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের সম্ভাবনা তুলে ধরার উদ্যোগটি অত্যন্ত প্রশংসনীয়। তিনি উল্লেখ করেন যে, ল্যাব ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা, দক্ষতার ঘাটতি এবং বৈশ্বিক বাজারের কঠিন প্রতিযোগিতার মতো চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ তা অতিক্রম করে এগিয়ে যাওয়ার অদম্য ইচ্ছা রাখে।
তরুণ ও উদ্যমী জনশক্তির ওপর ভর করে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পকে নতুন উচ্চতায় নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, সরকারি সংস্থা, বিশ্ববিদ্যালয়, শিল্প খাত এবং প্রবাসী পেশাজীবীদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। কৃষি, তৈরি পোশাক, প্রবাসী আয় এবং ডিজিটাল সেবার মতো এই খাতেও বাংলাদেশ সাফল্যের পরিচয় দেবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর শিল্প সমিতি এবং সিলিকন রিভার যৌথভাবে এই সামিটের আয়োজন করেছে। দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে ১১টি মূল অধিবেশন ও সাতটি কৌশলগত আলোচনার মাধ্যমে সেমিকন্ডাক্টর শিল্পের উন্নয়ন ও বৈশ্বিক প্রযুক্তির সমন্বয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হবে। অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম স্বপন, আইসিটি উপদেষ্টা রেহান আসাদ, সচিব এম আনোয়ার হোসেন এবং বাংলাদেশ সেমিকন্ডাক্টর ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম এ জব্বার বক্তব্য রাখেন। সম্মেলনের মূল কী-নোট উপস্থাপন করেন যুক্তরাষ্ট্রের পারডু বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক মুহাম্মদ মুস্তাফা হুসাইন।