July 26, 2026, 10:15 am

বিএনপির স্থায়ী কমিটি থেকেই নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা

Reporter Name
  • Update Time : Saturday, July 25, 2026
  • 3 Time View

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর দেশের পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ। গত শুক্রবার বিকেল পাঁচটায় সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর থেকেই সবার নজর এখন পরবর্তী রাষ্ট্রপতির দিকে। সরকারি ও বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, দলের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম ‘জাতীয় স্থায়ী কমিটি’ থেকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সম্ভাবনা প্রবল। যদিও বিষয়টি নিয়ে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দলীয় ফোরামে আলোচনা হয়নি, তবে শীর্ষ পর্যায়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে প্রস্তুতি চলছে।

গত ১৭ ফেব্রুয়ারি বিএনপি সরকার গঠনের সময় থেকেই রাষ্ট্রপতি পদে দলের বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ নেতার নাম আলোচনায় ছিল। এদের মধ্যে খন্দকার মোশাররফ হোসেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, আবদুল মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খানের নাম উল্লেখযোগ্য। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সম্ভাব্যদের তালিকা অনেকটাই সংক্ষিপ্ত হয়ে এসেছে। শারীরিক প্রতিকূলতাসহ বিভিন্ন বিবেচনায় অনেক জ্যেষ্ঠ নেতা এই দৌড় থেকে পিছিয়ে পড়েছেন। এর মধ্যে নতুন করে আলোচনায় যুক্ত হয়েছে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি এবং একজন সাবেক প্রধান বিচারপতির নাম।

তবে গত দুই দিনে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম অত্যন্ত জোরালোভাবে সামনে এসেছে। দলের ভেতরের একটি অংশ তাকে রাষ্ট্রপতি করার ব্যাপারে সক্রিয় রয়েছে। রাজনীতির বাইরের শুভাকাঙ্ক্ষীরাও তাকে এই পদের জন্য যোগ্য মনে করছেন। অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মির্জা ফখরুলকে ‘সেরা প্রার্থী’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার দুঃশাসনকালে দলের হাল ধরা এবং ত্যাগ স্বীকারের পাশাপাশি মির্জা ফখরুলের মডারেট ও সদাচারী ব্যক্তিত্ব তাকে এই পদের জন্য এগিয়ে রেখেছে। ব্র্যাক বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক আসিফ সালেহও একই ধরনের মত প্রকাশ করেছেন।

সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী, সংবিধানের ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগ, মৃত্যু বা অপসারণের কারণে রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করতে হয়। বর্তমানে জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করছেন। যেহেতু সংসদে বিএনপির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে, তাই দলের মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার কথা। তবে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে এখনো সময় বাকি আছে এবং রাজনীতির বাস্তবতায় পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হতে পারে। এসব বিবেচনায় রাজনৈতিক বোদ্ধাদের অনেকে বলছেন, ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার আগপর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীদের নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলতেই থাকবে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category