July 23, 2026, 8:02 am

সৌদি আরবের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ঐতিহাসিক পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি

Reporter Name
  • Update Time : Thursday, July 23, 2026
  • 2 Time View

যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব একটি ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তিতে সই করেছে, যা উপসাগরীয় দেশটিকে তাদের নিজস্ব বেসামরিক পারমাণবিক কর্মসূচি গড়ে তোলার পথ প্রশস্ত করবে। মার্কিন জ্বালানি মন্ত্রণালয় এই চুক্তিকে ‘শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক সহযোগিতা চুক্তি’ হিসেবে অভিহিত করেছে। এই চুক্তির ফলে সৌদি আরবের পারমাণবিক জ্বালানি কর্মসূচিতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর অংশগ্রহণের বড় ধরনের সুযোগ তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে একটি দ্বিপক্ষীয় নিরাপত্তা সুরক্ষা চুক্তিও স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা কয়েক দশকব্যাপী বহু বিলিয়ন ডলারের অংশীদারিত্বের আইনি ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে।

চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্তাবলি প্রকাশ করা হয়নি, তবে মার্কিন গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ভবিষ্যতে সৌদি আরবকে নিজস্ব ভূখণ্ডে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অনুমতি দেয়া হতে পারে। যদি ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণের বিধান এই চুক্তিতে অন্তর্ভুক্ত থাকে, তাহলে এটি ২০০৯ সালে সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের করা চুক্তি থেকে আলাদা হবে। ওই চুক্তিতে আমিরাত নিজস্ব জ্বালানি উৎপাদন করে না এবং আরও নানা ধরনের বিধিনিষেধ মেনে চলে। যদিও এটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের কথা বলা হচ্ছে, তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতেও ব্যবহৃত হতে পারে। এটি অস্থিতিশীল মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন অনেকে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি মন্ত্রী ক্রিস রাইট দাবি করেছেন, এই চুক্তিগুলো পারমাণবিক নিরাপত্তা ও অস্ত্র বিস্তার রোধে সর্বোচ্চ মান বজায় রাখবে এবং এতে মার্কিন উদ্ভাবিত বিশ্বের সেরা প্রযুক্তি ব্যবহৃত হবে।

সৌদি সরকার জানিয়েছে, এই চুক্তিটি দুই দেশের বিদ্যমান জ্বালানি সহযোগিতারই একটি সম্প্রসারণ। গত নভেম্বরে সৌদি নেতার ওয়াশিংটন সফরের পরপরই এই চুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়। এদিকে, চুক্তির শর্তাবলি নিয়ে মার্কিন কংগ্রেসে বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে। ডেমোক্রেট ও রিপাবলিকান উভয় দলের আইনপ্রণেতাদের একাংশ এর বিরোধিতা করতে পারেন। সমালোচকদের প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র এমন কোনো চুক্তি করবে না যা পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি তৈরি করে।

কিছু বিশেষজ্ঞ ও সাবেক কর্মকর্তা, বিশেষ করে ইসরাইলের পক্ষ থেকে এই পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। ডিফেন্স প্রায়োরিটিজের পরিচালক রোজমেরি কেলানিক জানিয়েছেন, কোনো দেশকে নিজস্ব মাটিতে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার সহায়তা দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের জন্য একটি বিস্ময়কর পদক্ষেপ। তবে বিশ্লেষকদের মতে, রাশিয়া ও চীনের সঙ্গে সৌদি আরবের পারমাণবিক আলোচনার প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে থাকতে চায়নি যুক্তরাষ্ট্র। এছাড়া, ২০১৮ সালে যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান জানিয়েছিলেন, ইরান পারমাণবিক বোমা তৈরি করলে সৌদি আরবও একই পথ অনুসরণ করবে। বর্তমান পরিস্থিতিতে এই চুক্তি মধ্যপ্রাচ্যের ক্ষমতার ভারসাম্যে দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category