টানা দুই সপ্তাহের তীব্র বোমাবর্ষণের পর ইরানের ওপর বিমান হামলা স্থগিত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে সর্বাত্মক যুদ্ধ এড়ানোর লক্ষ্যে কূটনৈতিক প্রচেষ্টাকে প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে। তবে আগামী মঙ্গলবার পাঁচ মাসে পড়তে যাওয়া এই সংঘাত থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান শেষ পর্যন্ত সরে আসতে পারবে কি না, তা নিয়ে সংশয় রয়েই গেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নতুন হামলার হুমকি অব্যাহত রাখার পাশাপাশি আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন, লড়াইয়ের ফলে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের কোনো ক্ষতির সম্ভাবনা নেই।
ওয়াশিংটন ইনস্টিটিউট ফর নিয়ার ইস্ট পলিসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মাইকেল সিং মনে করেন, ইরানিরা বুঝতে পারছে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে, বিশেষ করে ইসরাইল লড়াইয়ে জড়িয়ে পড়লে। তবে ইসরাইলের অনুপস্থিতি একটি সংকেত হতে পারে যে যুক্তরাষ্ট্র সংঘাত সীমিত রাখতে চায়। সিং জানান, এই সাময়িক হামলা বিরতি কয়েকদিনের দীর্ঘ বিরতিতে পরিণত হলে তা তাৎপর্যপূর্ণ হবে, তবে এটি অভিযান পরিচালনার বিরতি নাকি কূটনীতির সুযোগ দেয়ার জন্য তা স্পষ্ট নয়।
মধ্যস্থতার সাথে জড়িত আঞ্চলিক এক কর্মকর্তা জানান, জোরালো কূটনৈতিক তৎপরতা চলছে। মার্কিন হামলা এবং মার্কিন বাহিনীকে আশ্রয় দেয়া দেশগুলোতে ইরানের পাল্টা হামলা বন্ধ থাকা পরিস্থিতি শান্ত করতে সাহায্য করবে। বর্তমানে উভয় পক্ষই অন্তর্বর্তীকালীন যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে ফিরতে চায়। আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে হরমুজ প্রণালি দিয়ে পণ্যবাহী জলযান চলাচলের বিষয়ে ইরানকে কর্তৃত্ব দেয়া। সংঘাতের ফলে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়ায় মার্কিন নাগরিকদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, যা নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জন্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে।
সিং আরও উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো ইরানের বিভক্ত নেতৃত্ব। ইরানের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা আপসকে দুর্বলতা হিসেবে গণ্য করতে পারেন। তবে অর্থনৈতিক প্রয়োজনে উভয় পক্ষই প্রণালিটি পুনরায় চালু করতে আগ্রহী। এদিকে লড়াই থামলেও ওমানের উপসাগরে মার্কিন অবরোধ লঙ্ঘনের অভিযোগে মোজাম্বিকের পতাকাবাহী জাহাজ বিকল এবং ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের সৌদি আরবে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার দাবি পরিস্থিতিকে উত্তপ্ত করে রেখেছে। ট্রাম্প ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের জানান, তিনি সবকিছু টুকরো টুকরো করে ফেলার বিকল্প এবং আলোচনার মধ্যে যেকোনো একটি বেছে নিতে পারেন। বৃহস্পতিবার রাতে শীর্ষ নিরাপত্তা উপদেষ্টাদের সাথে বৈঠক করলেও ট্রাম্প জানান, তাড়াহুড়ো করার কিছু নেই এবং সঠিক উপায়ে কাজ সম্পন্ন করতে হবে। টানা ১৩ রাতের বিমান হামলার পর রাতে ইরানে নতুন কোনো হামলার খবর পাওয়া যায়নি।