রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ সংক্রান্ত সাম্প্রতিক আলোচনাকে ‘গুঞ্জন’ বলে আখ্যায়িত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তা কেবলই গুঞ্জন। এমন কোনো ঘটনা ঘটলে সরকার তা পর্যবেক্ষণ করবে। তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি এবং এ সংক্রান্ত কোনো তথ্যও তার কাছে নেই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্যাখ্যা করেন, রাষ্ট্রপতি যদি স্বাস্থ্যগত বা অন্য কোনো ব্যক্তিগত কারণে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিতে চান, তবে সংবিধানে তার সুনির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতিকে পদত্যাগপত্র স্পিকারের কাছে জমা দিতে হবে এবং পরবর্তী সাংবিধানিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বিষয়টি নিষ্পত্তি হবে। তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি পদত্যাগ করতে চাইলে সাংবিধানিক পথ খোলা আছে, কিন্তু বর্তমানে এ বিষয়ে সরকারের কোনো বক্তব্য বা সিদ্ধান্ত নেই। বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার সময় শেখ হাসিনার সঙ্গে রাষ্ট্রপতির কোনো ফোনালাপ হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তার কোনো ধারণা নেই।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগের মনোনয়নে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে মো. সাহাবুদ্দিন বাংলাদেশের ২২তম রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করেন। সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৮ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে রাষ্ট্রপতির অপসারণের দাবি জানিয়ে আসছিলেন বিভিন্ন ছাত্র সংগঠন। তবে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার তাকে অপসারণে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। পরবর্তী সময়ে সাহাবুদ্দিনের বিভিন্ন মন্তব্য ও অবস্থানের কারণে তাকে নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে নানা আলোচনার জন্ম হয়।
সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হলে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া ১২৩ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, পদত্যাগের ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর রাষ্ট্রপতির ভবিষ্যৎ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বিভিন্ন গুঞ্জন থাকলেও, সরকার বা বিএনপি আনুষ্ঠানিকভাবে তার পদত্যাগ দাবি করেনি। শেষ পর্যন্ত তিনি পদত্যাগ করলে দেশের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে এবং সরকার গঠনের পর প্রথমবারের মতো বিএনপি নিজেদের মনোনীত কাউকে রাষ্ট্রপতি করার সুযোগ পাবে। পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন নতুন রাষ্ট্রপতির মেয়াদকালেই হওয়ার কথা থাকায়, এই পদটি নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ রয়েছে।
তবে ২০২৫ সালের ১২ ডিসেম্বর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে সাহাবুদ্দিন বলেছিলেন, ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর মেয়াদের মাঝামাঝি সময়ে তিনি পদত্যাগ করতে চান। সেই সময় তিনি আরও বলেন, মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে তিনি অপমানিত বোধ করেছেন।