সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ দুবাইয়ের আদালত থেকে শর্ত সাপেক্ষে জামিন পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। রোববার বিকেলে রাজশাহীতে এক মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সরকার বেনজীর আহমেদের এই জামিন আদেশ বাতিলের জন্য দুবাইয়ে একটি ল ফার্ম নিয়োগ করেছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, তিনি দুবাইয়ে বেনজীরের জামিন পাওয়ার বিষয়টি শোনার পরপরই স্বরাষ্ট্র সচিবের সঙ্গে কথা বলেছেন। এরপর স্বরাষ্ট্র সচিব দুবাইয়ে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেছেন। সরকার শুধুমাত্র এই জামিন বাতিলের বিষয়টি পরিচালনার জন্য ল ফার্মকে নির্দেশ দিয়েছে। খবর অনুযায়ী, বেনজীরকে সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ না করার শর্তে জামিন দেওয়া হয়েছে। সরকার এখন সেই জামিনের সার্টিফাইড কপি সংগ্রহের চেষ্টা করছে এবং নিয়োগকৃত ল ফার্মকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে জামিন বাতিলের জন্য কাজ করতে বলা হয়েছে।
বেনজীর আহমেদকে দেশে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তিনি আইনানুগভাবেই দুবাই গিয়েছেন। সরকার তাদের সব ধরণের আইনি প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে। জামিন বাতিল করে দ্রুত সময়ের মধ্যে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গত ১৪ জুন পুলিশ সদর দপ্তরের মুখপাত্র এআইজি শাহাদাত হোসেন দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন। দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলার প্রেক্ষিতে ইন্টারপোলের সহায়তায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর আগে ২০২৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি আদালত তার বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের মাধ্যমে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করার আদেশ দিয়েছিলেন।
বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের ১৫ ডিসেম্বর দুদক চারটি পৃথক মামলা দায়ের করে। অভিযোগ রয়েছে, তিনি ও তার পরিবার ৭৪ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন এবং সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন। এর মধ্যে বেনজীরের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৪৪ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ২ কোটি ৬২ লাখ টাকার তথ্য গোপনের অভিযোগ রয়েছে। তার স্ত্রী জীশান মীর্জার বিরুদ্ধে ৩১ কোটি ৬৯ লাখ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ১৬ কোটি ১ লাখ টাকার তথ্য গোপনের অভিযোগ আনা হয়েছে।
এর আগে সকালে রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে ২৭তম বিসিএস পুলিশ ব্যাচের সমাপনী কুচকাওয়াজে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অংশ নেন। অনুষ্ঠানে তিনি পুলিশকে দলীয় প্রভাবমুক্ত, আধুনিক ও মানবিক সংস্থা হিসেবে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বেনজীর আহমেদ ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার তালিকায় ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের কয়েক মাস আগে তার ও তার পরিবারের বিপুল সম্পদের তথ্য সামনে আসার পর তিনি দেশ ত্যাগ করেন।