July 29, 2026, 6:15 pm

সরকারি প্রতিষ্ঠানে বিএনপি সংশ্লিষ্টদের নিয়োগ বাতিলের দাবি জামায়াতের

Reporter Name
  • Update Time : Tuesday, July 28, 2026
  • 8 Time View

রাষ্ট্রের বিভিন্ন সাংবিধানিক, স্বায়ত্তশাসিত ও সরকারি প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। দলটি দাবি করেছে, জুলাই সনদের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত গণভোটের রায় কার্যকর না করার মাধ্যমে সরকার তার জাতীয় অঙ্গীকার থেকে সরে এসেছে। মঙ্গলবার রাজধানীর মগবাজারের আল ফালাহ মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এসব অভিযোগ উত্থাপন করেন।

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে জাতির সামনে সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো—সহস্রাধিক শহীদের আত্মত্যাগ ও হাজারো আহত মানুষের ত্যাগের বিনিময়ে যে বৈষম্যহীন রাষ্ট্র গঠনের প্রত্যাশা ছিল, দেশ সেই পথে এগোচ্ছে নাকি আবারও পুরনো রাজনৈতিক সংস্কৃতির দিকে ফিরে যাচ্ছে। তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পর ক্ষমতাসীন দল রাষ্ট্র ও সংবিধান সংস্কার এবং গণভোটে জনগণের রায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে। একই সঙ্গে রাষ্ট্র পরিচালনায় রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা বজায় রাখার অঙ্গীকারও রক্ষা করা হয়নি।

জামায়াতের এই নেতা বলেন, বিএনপির ঘোষিত ৩১ দফার নবম দফায় রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি ছিল। কিন্তু বাস্তবে নির্বাচনের পর বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), মহেশখালী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ ও এনজিওবিষয়ক ব্যুরোসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিএনপির সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিদের নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ে অতিরিক্ত সচিব পদে শামসুল আলমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগকে বিশেষ উদ্বেগের বিষয় হিসেবে তুলে ধরা হয়। মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, অবসরের পর শামসুল আলম বিএনপির একটি সংসদীয় আসনের সীমানা পুনর্বিন্যাস-সংক্রান্ত কমিটির সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। এমন একজনকে নির্বাচন কমিশনের মতো সংবেদনশীল পদে নিয়োগ দিলে কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি হওয়া স্বাভাবিক। তিনি আরও বলেন, সামনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন রয়েছে, যেখানে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিবের গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ভূমিকা থাকে। তাই রাজনৈতিকভাবে সম্পৃক্ত ব্যক্তিকে ওই পদে রাখা হলে নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হওয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।

জামায়াত অবিলম্বে ওই নিয়োগ বাতিলের দাবি জানিয়েছে। দলটির পক্ষ থেকে সতর্ক করে বলা হয়েছে, তা না হলে আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হতে পারে এবং নির্বাচন প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে নতুন করে ভাবতে হতে পারে। এ ছাড়া জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও বিভিন্ন স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে দলীয় বিবেচনায় প্রশাসক নিয়োগের সমালোচনা করে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী এসব নিয়োগ পুনর্বিবেচনা করে রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখার আহ্বান জানিয়েছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category