বিশ্বের ৬০টিরও বেশি দেশের ওপর নতুন করে শুল্ক আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতির অংশ হিসেবে নেওয়া এ পদক্ষেপের মূল লক্ষ্য হলো ‘জোরপূর্বক শ্রমে’ উৎপাদিত পণ্যের আমদানি নিরুৎসাহিত করা। গত মঙ্গলবার মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি (ইউএস ট্রেড রিপ্রেজেন্টেটিভ) জেমিসন গ্রিয়ার এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বর্তমানে কার্যকর অস্থায়ী বৈশ্বিক শুল্কের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই নতুন শুল্ক কাঠামো কার্যকরের জন্য কাজ করছে ট্রাম্প প্রশাসন।
সিএনবিসিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে জেমিসন গ্রিয়ার জানান, জোরপূর্বক শ্রমে তৈরি পণ্যের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের আইন বেশ কঠোর। কিন্তু বিশ্বের অধিকাংশ দেশের এমন কোনো আইন নেই অথবা যেসব দেশে আইন রয়েছে, সেগুলোর যথাযথ প্রয়োগের অভাব রয়েছে। এ কারণেই যুক্তরাষ্ট্র খুব শিগগিরই এ বিষয়ে চূড়ান্ত পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা করছে। চলতি বছরের শুরুতে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট আইনি জটিলতার কারণে ট্রাম্প প্রশাসনের ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্কের একটি বড় অংশ বাতিল করে দেয়। এরপরই প্রশাসন নতুন আইনি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে শুল্কনীতি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেয়।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারণা, বর্তমানে কার্যকর ১০ শতাংশ অস্থায়ী শুল্কের পরিবর্তে এবার ১০ থেকে ১২ দশমিক ৫ শতাংশ পর্যন্ত স্থায়ী শুল্ক আরোপ করা হতে পারে, যা যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক বাণিজ্যের একটি বড় অংশকে প্রভাবিত করবে। এই নতুন শুল্ক ব্যবস্থার আওতায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ), চীন, জাপান, তাইওয়ান ও ভিয়েতনামসহ যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বাণিজ্য অংশীদার দেশগুলো অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে। এতে বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইতিমধ্যেই যুক্তরাষ্ট্রের এই উদ্যোগের কড়া সমালোচনা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ইইউর দাবি, জোরপূর্বক শ্রম প্রতিরোধে তাদের আইন বিশ্বের অন্যতম কঠোর। তাই এই অজুহাতে ইউরোপীয় দেশগুলোর ওপর নতুন শুল্ক আরোপের কোনো যৌক্তিকতা নেই। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, নতুন এই শুল্ক কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের মধ্যে বাণিজ্যিক টানাপোড়েন আরও বৃদ্ধি পাবে।