July 21, 2026, 12:31 pm

কানাডায় ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলেন ডনাল্ড ট্রাম্প

Reporter Name
  • Update Time : Tuesday, July 21, 2026
  • 2 Time View

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কানাডা থেকে আমদানি করা বিভিন্ন পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের গাড়ি, দুগ্ধজাত পণ্য ও মদের প্রতি কানাডার ‘অসম আচরণের’ জবাব হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এই নতুন শুল্কের আওতায় ওয়াইন, হকি স্টিকের মতো ভোগ্যপণ্য এবং সিমেন্টের মতো শিল্পপণ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে জ্বালানি, পটাশ, গুরুত্বপূর্ণ খনিজ এবং মাছের মতো প্রধান রপ্তানি পণ্যগুলো এই শুল্কের আওতামুক্ত রাখা হয়েছে।

হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, নতুন এই শুল্ক ৩০ দিন পর কার্যকর হবে। এটি উত্তর আমেরিকার দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যে চলমান বাণিজ্য উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলবে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (ইউএসএমসিএ)-এর আওতায় থাকা পণ্যগুলোও এই শুল্ক থেকে ছাড় পাবে না।

কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি এই পদক্ষেপকে কানাডা-যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন এবং যুক্তরাষ্ট্রের ধারাবাহিক একতরফা বাণিজ্যিক পদক্ষেপের সর্বশেষ উদাহরণ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেয়া বিবৃতিতে তিনি কানাডার সার্বভৌমত্বের প্রতি হুমকির বিষয়টিও তুলে ধরেন। বিশ্লেষকদের মতে, এটি কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্যে পরিণত করার বিষয়ে ট্রাম্পের আগের মন্তব্যেরই ইঙ্গিত বহন করে।

সোমবার ঘোষিত এই নতুন শুল্কের আগে থেকেই কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার ওপর ১৫ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক কার্যকর রয়েছে। এছাড়া কানাডার সফটউড কাঠের ওপর ৩৫ শতাংশ এবং গাড়িতে ব্যবহৃত মার্কিন নয় এমন যন্ত্রাংশের ওপর ২৫ শতাংশ শুল্ক বিদ্যমান। এর বিপরীতে কানাডাও যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানিকৃত নির্বাচিত ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও যানবাহনের ওপর ২৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করে রেখেছে।

গাড়ি ও দুগ্ধজাত পণ্যের ক্ষেত্রে ট্রাম্পের অভিযোগ, ইউএসএমসিএর বাইরে থাকা মার্কিন গাড়ি ও যন্ত্রাংশের ওপর কানাডা কর আরোপ করছে, যা অযৌক্তিক। এছাড়া কানাডার সরবরাহ ব্যবস্থাপনা নীতির কারণে নির্ধারিত সীমার বেশি দুগ্ধজাত পণ্য আমদানিতে ৩০০ শতাংশেরও বেশি শুল্ক দিতে হয়। গত বছর থেকে কানাডার অধিকাংশ প্রদেশে মার্কিন মদ্যপানীয় বর্জনের সিদ্ধান্তও যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তোষের অন্যতম কারণ। প্রাদেশিক নেতারা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি ধাতু ও মোটরগাড়িসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে আরোপিত শুল্ক প্রত্যাহার করে, তবেই তারা মার্কিন মদ্যপানীয়ের ওপর বর্জন তুলে নেবেন।

চলতি বছরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র ইউএসএমসিএ চুক্তি বর্তমান আকারে নবায়ন না করার সিদ্ধান্ত নেয়। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, আমদানি শুল্ক আরোপে তারা নতুন আইনি পথ ব্যবহার করছে। সোমবার ঘোষিত এই শুল্ক ১৯৩০ সালের ট্যারিফ অ্যাক্টের ৩৩৮ ধারার অধীনে জারি করা হয়েছে, যা জাতীয় জরুরি অবস্থা নয় বরং বাণিজ্যে বৈষম্যের অভিযোগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।

কানাডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের প্রধান ক্যান্ডেস লেইং এই সিদ্ধান্তকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেছেন এবং শুল্ক কার্যকরের আগে আগামী ৩০ দিনের মধ্যে দুই দেশের আলোচনায় অর্থবহ অগ্রগতির আহ্বান জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ডিস্টিলড স্পিরিটস কাউন্সিলের প্রধান ক্রিস সোয়ঙ্গারও উভয় পক্ষকে দ্রুত সমাধানে পৌঁছানোর আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, এই সিদ্ধান্ত আরও পাল্টা পদক্ষেপের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিচ্ছে।

Please Share This Post in Your Social Media

More News Of This Category