রোববার রাতে নিউ ইয়র্কের নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল ম্যাচটি উপভোগ করতে নিজের মেরিন ওয়ান হেলিকপ্টারে চড়ে উপস্থিত হয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। টুর্নামেন্টের সমাপনী আয়োজনে তিনি ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প ও ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর পাশে বসে খেলা দেখেন। মার্কিন জাতীয় সঙ্গীত বাজানোর সময় তাকে দাঁড়িয়ে স্যালুট জানাতে দেখা যায়। গ্যালারিতে বসে দেখা এটিই ছিল ট্রাম্পের প্রথম বিশ্বকাপ ম্যাচ। তবে মাঠে প্রবেশের সময় দর্শকদের একাংশের কাছ থেকে দুয়ো ধ্বনি শুনতে হলেও, পুরো আয়োজনে তিনি মনোযোগের কেন্দ্রে ছিলেন। এই বিশ্বকাপকে তিনি পৃথিবীর ইতিহাসের সবচেয়ে সফল ক্রীড়া ইভেন্ট হিসেবে অভিহিত করেছেন।
ম্যাচ শেষে স্পেনের হাতে বিশ্বকাপ ট্রফি তুলে দেওয়ার সময়ও ট্রাম্পের উপস্থিতি ছিল দীর্ঘ। চ্যাম্পিয়ন দল যখন ট্রফি উঁচিয়ে উল্লাস করছিল, তখন ফিফা সভাপতি ইনফান্তিনো তাকে মঞ্চ থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলেও ৮০ বছর বয়সী এই নেতা সেখানে আরও কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন। এক পর্যায়ে স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের সামনেই তিনি তার পরিচিত সিগনেচার ট্রাম্প ড্যান্স প্রদর্শন করেন। ট্রাম্পের এই আচরণ নিয়ে নানা মহলে আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ফাইনাল ম্যাচটি ট্রাম্পের জন্য কূটনৈতিক আলোচনারও সুযোগ তৈরি করে দেয়। তিনি কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নির সঙ্গে কানাডার দাবানলের ধোঁয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ছড়িয়ে পড়া নিয়ে কথা বলেছেন বলে জানান। এছাড়া স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সঙ্গেও তার কথোপকথন হয়েছে। মাদ্রিদের সাম্প্রতিক কিছু নীতির সমালোচনা করলেও, সানচেজের সঙ্গে আলোচনায় কোনো উত্তেজনা ছিল না বলে দাবি করেন ট্রাম্প।
টুর্নামেন্ট জুড়ে ট্রাম্পের সম্পৃক্ততা অবশ্য বিতর্কিত ছিল। এর আগে মার্কিন স্ট্রাইকার ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড স্থগিতের জন্য ফিফা সভাপতির কাছে তার ফোন করার বিষয়টি ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দিয়েছিল। এছাড়া তার অভিবাসন নীতির কারণে অনেক বিদেশি ভক্ত ভিসা সংক্রান্ত জটিলতায় পড়েছিলেন। সব বিতর্ক ছাপিয়ে ট্রাম্প ২০২৬ সালের এই টুর্নামেন্টকে ইতিহাসের সেরা বলে দাবি করেছেন এবং আমেরিকায় ফুটবলের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তার ২০ বছর বয়সী ছেলে ব্যারনও ফুটবলের বড় ভক্ত বলে জানান তিনি।
ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন টুর্নামেন্টের ১০৪টি ম্যাচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই খেলার জনপ্রিয়তা আরও বাড়িয়ে দিতে সাহায্য করেছে। তিনি বলেন, ‘দেখা গেল আমরা আসলে সকারেরই (ফুটবল) দেশ এবং আমার মনে হয় এটি বজায় থাকবে।’ তিনি আরও জানান যে তার ২০ বছর বয়সি ছেলে ব্যারন ফুটবলের মস্ত বড় ভক্ত।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে হোয়াইট হাউস ফেরার পর থেকেই ট্রাম্প বিশ্বকাপের সঙ্গে নিজের রাজনৈতিক ব্র্যান্ডকে জড়িয়ে নিয়েছেন। সেখানে একাধিকবার ইনফান্তিনোকে আতিথেয়তাও দিয়েছেন তিনি। তবে টুর্নামেন্ট শুরুর ঠিক আগমুহূর্তে ট্রাম্পের অভিবাসন নীতির কারণে কিছু জটিলতা তৈরি হয়েছিল। অনেক বিদেশি ফুটবল ভক্তকে ভিসা সংক্রান্ত সমস্যার মুখোমুখি হ